এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জ-ইনাতগঞ্জ, ভায়া কাজিরগঞ্জবাজার টু কাদিরগঞ্জ বাজার (মার্কুলী) সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। ফলে সর্ব সাধারণের জন্য নরক যন্ত্রণার মাধ্যম হয়ে উঠেছে সড়কটি। উক্ত সড়কটি মেরামত বা সংস্কারের দাবীতে আজ শনিবার সকাল ১১ টায় কাজিরগঞ্জ বাজারে বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। মানববন্ধন সফল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ব্যাপক প্রচারনা চালিয়েছেন এলাকাবাসী। উক্ত মানববন্ধন থেকে উক্ত সড়কটি সংস্কারে মাত্র ৭ মাস আগে খরচ করা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। সেই সংস্কার টেকেনি তিন মাসও। আর সংস্কার বলতে যা করা হয়েছে তা হলো, ভাঙা সুড়কি দিয়ে গর্ত ভরাট। এই সংস্কারের নামে লোপাট হয়েছে অর্থ। তার তদন্ত দাবী করা হবে। ইতিমধ্যে বেরসিক লোকজন সড়ক
সংস্কার বা পুণঃ নির্মাণের দাবীতে সড়কের উপর জমে থাকা কাদাঁপানিতে ধানের ছাড়া রুপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ছোট-বড় গর্তে ভরা সড়কটির পদে পদে মরণফাঁদ। বর্ষার পানিতে ঢাকা পড়া চোরা ও বড় গর্তগুলো প্রতি মুহূর্তে বিপদের শঙ্কা জাগিয়ে রেখের্ছে। উপজেলার ভাটি অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই ১৭ কিলোমিটার বেহাল সড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে অন্তত ৩টি ইউনিয়নের ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। একটু বৃষ্টি হলে সড়কের গর্তগুলোতে পুকুরের মতো পানি জমে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই সড়কে দুর্ঘটনা এখন স্বাভাবিক ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন সড়কটি বেহাল অবস্থায় থাকলেও কার্যকর কোনো সংস্কার হয়নি। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডি, হবিগঞ্জ এর স্মারক নং ৪৬.০২.৩৬০০.১৬.০১০.২০২৬-২৭৪৭ তারিখ ০৪/০১/২০২৬ইং এর আলোকে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারী ওই সড়কটি মেরামত সংস্কারের জন্য ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৩৭ টাকা অনুমোদন ও টেন্ডার হয়। কাগজপত্রে সংস্কার কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে কোন কাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবী কিছু সুরকি ইট ফেলে গর্ত ভরাট করা হলেও তিন মাসের মধ্যে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও অনেক সময় যানবাহন পাওয়া যায় না। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বড় ভাকৈর ও পশ্চিম বড় ভাকৈর ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, সড়কটির যে দশা, এতে যে কোনো যানবাহনে উঠতেই ভয় লাগে। প্রতিদিন কোনো না কোনো স্থানে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং বিকল হচ্ছে যানবাহন।
নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর পুর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন চুবা বলেন, সড়কের অবস্থা দেখে মনে হয় মাছ চাষের জন্য গর্ত করা হয়েছে। ৭ মাস আগে ইট দিয়ে মেরামত করা হলেও তিন মাসের মধ্যে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।
উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শেফু বলেন, বর্ষাকালে এই রাস্তার গর্তে পানি জমে নদীর মতো হয়ে যায়। তখন মানুষ ও যানবাহনের সবচেয়ে বেশি তি হয়। এমনকি রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে এই এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিয়েও ভেঙে যাচ্ছে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জোর দাবি জানান। স্থানীয়রা বলেন, ৩২ লাখ টাকার কাজ করলে এতো তাড়াতাড়ি সড়কের এমন বেহাল দশা হওয়ার কথা নয়। সত্যিকার অর্থে উল্লেখিত পরিমান টাকার কাজ হয়েছে কি না তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখা জরুরী। নাম অপ্রকাশের শর্তে অনেকেই বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা যৎ সামান্য কাজ করে ভাগবাটোরা করে নিয়েছেন। এখন মানুষ জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে চলাচল করছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমেদ ৩২ লাখ টাকার মেরামতের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর কিছু ইট দিয়ে গর্ত গুলো ভরাট করা হয়েছিল।