স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখনের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য, নির্ধারিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করা, স্থগিত তারিখে পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ২০২২ সাল থেকে অদ্যাবধি টিউশন ফি শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৪ জন শিক্ষার্থীর নিবন্ধন ও প্রবেশপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পরে শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতনের প্রায় ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের পর তাদের নিবন্ধন কার্ড হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আলিম বিভাগের অনুমোদন না থাকায় ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪৪ জন শিক্ষার্থী ওসমানীনগর উপজেলার হযরত শাহজালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অধীনে পাঠদান করে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানান্তরিত ২৪ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বেতন বাবদ দুই লাখ টাকার বেশি আদায় করা হলেও সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া প্রচলিত বিধি অনুসরণ না করে এবং পাওনা পরিশোধ ছাড়াই ২৪ জন শিক্ষার্থীকে পুনরায় মাধবপুর আলিম মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল হযরত শাহজালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়। এদিকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করা, এ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের অনিয়মের অভিযোগ এবং সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্থগিত তারিখে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
অভিযোগের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখনকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে গত ২৮ জুলাই নোটিশ প্রদান করা হয়।
এছাড়া তজমুল আলীকে ভুয়া দাতা সদস্য দেখিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাতা প্রতিনিধি নির্বাচনের অভিযোগসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখন। তিনি বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। আমাকে দেওয়া নোটিশের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।”