শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জ সড়ক এখন মরণ ফাদঁ কাজ নিয়ে তদন্তের দাবী ॥ আজ মানববন্ধন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে গোলাম মোস্তফা রফিকসহ ৩ জনের মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে এমপি ফয়সল ও শাম্মী আক্তারের শোক নবীগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চার গ্রামের পঞ্চায়েতের কবরস্থান দখলের অভিযোগ শহরে রাজনগর ও আনোয়ারপুরে দুই দল যুবকের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া বানিয়াচং দক্ষিণ আঞ্চলিক শ্রমিক কমিটি গঠন আবুল কাশেম আহবায়ক, রুবেল মিয়া সদস্য সচিব বাহুবলের রাবার বাগান কর্মী মোশাররফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগ নবীগঞ্জে সারের ডিলার পয়েন্টে বিশেষ অভিযান ॥ জরিমানা চুনারুঘাটে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ॥ মালামাল লুট হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ॥ গ্রেপ্তার ৪

বাহুবলের রাবার বাগান কর্মী মোশাররফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাহুবল উপজেলার সম্ভপুর গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন। এক সময় রাবার বাগানে সাধারণ ‘টেপার’ বা গাছ থেকে কষ সংগ্রাহক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি সুপারভাইজারের দায়িত্ব পান। মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করলেও গত প্রায় ১৫ বছরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বাগান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে সিলেট জোনের চারটি রাবার বাগানে ঠিকাদারি কাজের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন মোশাররফ হোসেন। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মুমিন তালুকদারের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য সামনে আসার পর কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মুমিন তালুকদারকে অন্যত্র বদলি করে। পরবর্তীতে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। তবে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্র জানায়, মোশাররফ হোসেন নিজের ছেলে রায়হানের নামে ‘রায়হান এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ করে বিভিন্ন রাবার বাগানের কাজ বাগিয়ে নেন। বাজারে যেখানে জ্বালানি কাঠ প্রতি ফুট ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়, সেখানে প্রভাব খাটিয়ে মাত্র ১৮ টাকা দরে জ্বালানি কাঠের টেন্ডার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে সরকারি কর্পোরেশনের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ নষ্ট করে জমি দখলেরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাগানের ২২/৮৫ নম্বর ব্লকের চা বাগান সীমান্তবর্তী এলাকায় সরকারিভাবে রোপণ করা আনুমানিক পাঁচ একর জমির রাবার গাছ লোকজন দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে জমিটি খালি করে বাগানেরই অন্য এক শ্রমিকের কাছে ধান চাষের জন্য অবৈধভাবে লিজ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ওই জমি থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে তা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে একই ধরনের বেতনে কর্মরত অন্য শ্রমিক ও কর্মচারীদের পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মোশাররফ হোসেন কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন। এ বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট বা সন্তোষজনক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল ও বাগানের সাধারণ শ্রমিকরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি সম্পদ নষ্ট, অবৈধভাবে জমি দখল ও লিজ বাণিজ্য, টেন্ডার অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com