বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বানিয়াচংয়ে ৯ ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা ॥ ২ বছরেও শুরু হয়নি বিচার শহীদ পরিবারে তীব্র ক্ষোভ দেউন্দি-রঘুনন্দন বনাঞ্চলের গাছ কেটে সাবাড় ॥ হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য আজ “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস” এই আন্দোলনে হবিগঞ্জ জেলায় ১২ ছাত্র-জনতা ও পুলিশ প্রাণ হারান মাধবপুরে লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম হবিগঞ্জ জেলা শাখার নয়া কমিটি বানিয়াচঙ্গে শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় ডা. জীবন ॥ আজকের কৃতিরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউ.কে এর উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণ ইংল্যান্ড আলাল মহসিনের চুরি যাওয়া ২টি আইফোন ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার তেতৈয়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হলো শিশু

মাধবপুরে লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন

  • আপডেট টাইম বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বা পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ মাধবপুর উপজেলায় গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ও রাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং শিল্প-কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও। বিশেষ করে উপজেলার পাঁচটি চা বাগানে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চা উৎপাদনের ভরা মৌসুম চললেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চা প্রক্রিয়াজাতকরণে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ।
জগদীশপুর চা বাগানের ম্যানেজার মনির হোসেন বলেন, “হঠাৎ করেই আমরা এই সমস্যার মধ্যে পড়েছি। চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো বিদ্যুৎ। কিন্তু বর্তমানে দিন-রাত শুধু বিদ্যুৎ আসা-যাওয় করছে। এতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাগানের বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।”
লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেক অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, “জুন মাসে বিদ্যুতের বিল আগের তুলনায় বেশি এসেছে। অথচ বিদ্যুৎ পাচ্ছি অনেক কম। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরের স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।”
এদিকে বিদ্যুতের ব্যবহার ও সাশ্রয় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সম্প্রতি হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উদ্যোগে উঠান বৈঠক ও গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুন-জুলাই মাস থেকে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের কোনো করণীয় নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।
মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. ইউসুফ আলী বলেন, “আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করি না। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দিনে আমাদের চাহিদা প্রায় ১৫ মেগাওয়াট, কিন্তু পাচ্ছি মাত্র ৫ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে ২০ মেগাওয়াাটে পৌঁছায়, অথচ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। এই সীমিত বিদ্যুৎ দিয়েই কোনো রকমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “গ্যাসক্ষেত্রে সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারের এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com