স্টাফ রিপোর্টার ॥ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন- প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। তবে পানির গেট খুলে দিয়ে আমাদের কোনো অঞ্চলের মানুষকে বন্যা কবলিত করা যাবে না। হবিগঞ্জ যেন কোনো অবস্থাতেই বন্যায় প্লাবিত না হয় সেটা অগ্রাধিকার দিয়েই বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে। এই বর্ষার পরই আমরা সেই প্রকল্পের কাজ শুরু করব। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) দুপুরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। দেড় মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় দ্বিতীয়বার খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় তিনি পরিস্থিতি দেখতে হবিগঞ্জ আসেন। প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। প্রতিবেশী যে কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই। সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে গেলে আমরা আশা করব এভাবে বন্যায় ফেলে দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষকে বন্যা কবলিত যেন না করে। আমরা আশা করি, তারা সেই বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন, তাহলেই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও অটুট হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা স্থানীয় এমপি হুইপ জি কে গউছ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শন করতে এসেছি। বার বার যেন বাঁধ ভেঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে জন্য স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহন করা হবে। খোয়াই নদীর বাঁধের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, তারা কাজ করছে। শুধু বাঁধ নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে কি না, নাকি সেখানে সুইসগেট স্থাপন প্রয়োজন, তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের এমপি ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ, হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান প্রমুখ। হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ এমপি বলেন- খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙ্গার কারণে ওই এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, মানুষের কষ্ট হচ্ছে, এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। তিনি বলেন- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করব ইনশাআল্লাহ। কাজের মান ও অগ্রগতি নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কাজ করবেন। এমপি জি কে গউছ বলেন- বাঁধ ভাঙ্গার ঘটনায় কিছু ভিন্ন দলের মতাদর্শী মিডিয়ার লোক মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাকে সামনে এনে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না। আমরা তাদেরকে চিনি এবং জানি। এদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিএনপির ভাবমুর্তি নষ্ট করা। কিন্তু বিএনপি প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে না, আমরা সকলকে নিয়েই দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন সেই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।