শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর জশনে জুলুছে লাখো জনতার ঢল সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বে হুইপ জি কে গউছ হবিগঞ্জে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস পালিত মাধবপুরে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাঁই ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কে দুর্ঘটনায় যুবক নিহত আশুগঞ্জে ভারতীয় চোরাই শাড়িসহ চুনারুঘাটের দুই যুবক গ্রেফতার নবীগঞ্জের পরিচিত মুখ মারুফ মিয়া আর নেই চুনারুঘাটে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুশে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযান ॥ বিপুল পরিমান এসকাফসহ নারী আটক

হবিগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর জশনে জুলুছে লাখো জনতার ঢল

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) যথাযোগ্য মর্যাদায় হবিগঞ্জে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার সকালে আহলে সুন্নাতওয়াল জামাত সমন্বয় পরিষদ হবিগঞ্জের উদ্যোগে শহরের চৌধুরী বাজার কেন্দ্রীয় সুন্নী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে লাখো মুসলিম জনতার অংশগ্রহণে বিশাল জশনে জুলুস বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ পৌরসভা মাঠে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। আহলে সুন্নাতওয়াল জামাত সমন্বয় পরিষদ হবিগঞ্জের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ রইছ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা এম এ জলিল ও সাংগঠনিক আবু তৈয়ব মোজাহেদীর সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে শুভে”ছা বক্তব্য রাখেন প্র¯‘তি কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মাওঃ গোলাম সরওয়ার আলম। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন কদমচাল দরবার শরীফের পীর মাওলানা আবুল কাশেম, হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মনিরুজ্জামান, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা ফরিদ উদ্দিন আহমদ, সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা শহীদুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল মজিদ পিরিজপুরী, মাওলানা মাহামুদুর রহমান, মাওলানা মুফতি আব্দুল মুকিত, ইসলাম তরফদার তনু, উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান আউয়াল, এমজি মোহিত, মহিবুল ইসলাম শাহীন, সৈয়দ মুশফিক আহমেদ, মোঃ ফারুক মিয়া, মুফতি তাহির উদ্দিন সিদ্দিকী, মুফতি মাওলানা খাইরুদ্দিন, মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান আজহারী, মুফতি মাওলানা আশরাফুল ওয়াদুদ, হাফিজ আব্দুর রহমান সেলিম প্রমুখ। পরিশেষে মুসলিম উম্মার সমৃদ্ধ ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন নুর মোহাম্মদপুর দরবার শরিফের পীর অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন। আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তালাওয়াত করেন মুফতি জয়নাল আবেদীন ফারুকী। নাতে রাসুল পরিবেশন করেন মুফতি মুজিবুর রহমান খান।
সভায় বক্তাগণ বলেন-এ দেশের রাসুল প্রেমিক সুন্নি মুসলমাগণ যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন ১২ ই রবিউল আউয়াল এর জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নী (সাঃ) এর আয়োজন করা হবে। এ দেশের মানুষ মুসলমান হয়েছেন অলি-আউলিয়াদের উছিলায়। তাদের পবিত্র মাজারের উপর যারা হামলা করেছে তারাতো কখনো গান, বাজনার আস্তানা, সিনেমা হল কিংবা মদ, গাঁজাসেবীদের আস্তানা ভাংচুর করতে দেখিনি। মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে মিলাদুন্নবী বিদ্বেশী তথা কথিত আলেমগন মিছিল বের করে যখন আনন্দ উল্লাস করেন, তখন এ ব্যাপারে কোন ফতোয়া দেওয়া হয়নি। বরং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান আসলে ফতোয়া দেওয়া হয়। বিগত সরকারের আমলে সনদের স্বীকৃতি পেয়ে সারা দেশে শোকরানা মাহফিল ও মিছিল যদি বৈধ হয়। তাহলে নবী রাহতুললীল আল-আমিন দুনিয়ার আগমনের দিনে শোকরানা মাহফিল ও জুশনে জুলুছ কেন বৈধ হবে না। সভায় বক্তারা আরো বলেন-এই দিনে সকলকে প্রিয়নবীর আদর্শ অনুসরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে। আগামীতে আরো ব্যাপক সমারোহে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর জশনে জুলুছে যোগদান করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব রইছ মিয়া বলেন, এদেশ ৯০% মুসলমানদের দেশ, এদেশে কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বললে তার পরিণতি ভাল হবে না। যে বা যারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে তাদেরকে অচিরেই সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন- হবিগঞ্জে বিভিন্ন পীর মাশায়েকদের অসংখ্য মুরিদান ও ভক্তবৃন্দ রয়েছেন। তাদের এবং সকল সুন্নী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত সমন্বয় পরিষদ, হবিগঞ্জ। সকল সুন্নী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে আগামী দিনগুলিতে সুন্নীয়তের বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে নবী প্রেমীদের প্রাণের অনুষ্ঠান জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) অনুষ্ঠানটি সফল করায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওঃ কাজী এম.এ জলিল তার স্বাগত বক্তব্যে বর্তমান সরকারের নিকট কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবইয়ে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম এর জীবনী অন্তভুক্ত করা, আল্লামা নরুল ইসলাম ফারুকী ও মাওলানা রইচ উদ্দিনের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার ভিত্তিতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এবং সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঈদে মিলাদুনবীর প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদান করা সময়ের দাবি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com