মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

৪৫ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি যুদ্ধাহত ইয়াকুব আলী ॥ হাইকোর্টের রুল ॥ মন্ত্রী সচিবসহ ৫ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ

  • আপডেট টাইম রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ৬৬৯ বা পড়া হয়েছে

আবুল হোসেন সবুজ, মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ দেশ প্রেমের সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭১ সালে মহান যুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন টকবগে যুবক ইয়াকুব আলী। তিনি ৩ নং সেক্টরে সেক্টর কামন্ডার কেএম সফিউল্ল্যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ৭১ এর রণাঙ্গণের ইয়াকুব আলীর সাথী যোদ্ধা মাধবপুর উপজেলার সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ফুল মিয়া বলেন, ৩নং সেক্টরে আখাউড়ার জয়নগরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সক্রিয় সম্মুখ যুদ্ধে আহত হয়ে ১৩ ডিসেম্বর ভারতের জিবি হাসপাতালে ভর্তি হন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সৈনিক পদে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হন। কিন্তু যুদ্ধে আহত হওয়ার কারণে ১৯৭২ সালের ফেব্র“য়ারী মাসে তিনি সেনাবাহিনী থেকে চাকরি ছেড়ে দেন। এর পর থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ৫ মেয়ে ৩ ছেলে নিয়ে অতি কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বীকৃতি ও সম্মাননা জানিয়ে নগদ ২ হাজার টাকা যুদ্ধাহত ইয়াকুব আলীকে প্রদান করেন। মাধবপুরে যুদ্ধাপরাধী সৈয়দ কায়সার এর যুদ্ধাপরাধ মামলায় মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী ৬নং স্বাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুালে স্বাক্ষী দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করার জন্য যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সমন্বয়কারী মোঃ আব্দুল হান্নান পিপিএম মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল খালেককে চিঠি দেন। তিনি এ চিঠি পেয়ে মাধবপুর উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ইউএনও রাশেদুল ইসলামকে চিঠি দেন বীরঙ্গণা মাজেদা এবং ইয়াকুব আলীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য। কিন্তু যাচাই বাছাই কমিটি মাজেদাকে বীরঙ্গণা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তি করলেও ইয়াকুব আলীকে তালিকা ভুক্ত করেনি। মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী বলেন, তিনি ৪৫ বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে কষ্ট করছেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের কতিপয় লোকের অসহযোগিতার কারণে তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। অবশেষে তিনি গত ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ হাছান আরিফের দ্বৈত বেঞ্চে একটি রীট পিটিশন ১৩৮৭২ মামলা করেছেন। শুনানী শেষে বিচারক কেন ইয়াকুব আলীকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না এ ব্যাপারে গত ৩০ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডেপুটি কমিশনার হবিগঞ্জ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন। গত বৃহষ্পতিবার সকালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী কাগজপত্র দেখাতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, টাকা পয়সা চাই না স্বীকৃতি পেয়ে মরতে চাই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com