স্টাফ রিপোর্টার ॥ লাখাইয়ে রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বর্ষার পানি কমে আসায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজে সরগরম হয়ে উঠেছে কৃষিজমি। ইতোমধ্যে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের ওঠানামা ও ফের পানি বাড়ার আশঙ্কায় এখনো সব জমিতে পুরোদমে রোপণ শুরু হয়নি। কৃষকদের ধারণা, চলতি সপ্তাহেই উপজেলার অধিকাংশ জমিতে আমন রোপণের কাজ জোরেশোরে শুরু হবে।
লাখাইয়ের বামৈ ইউনিয়নের ভাদিকারা গ্রামের কৃষক ফিরোজ আলী ও মারাজ মিয়া জানান, অনেক কৃষক এরই মধ্যে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন। তারাও গত শুক্রবার থেকে নিজেদের জমিতে চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন। এদিকে উপজেলার যেসব জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছিল, সেসব জমিতে একদিকে চলছে আউশ ধান কাটার কাজ, অন্যদিকে শুরু হয়েছে রোপা আমনের জন্য জমি প্রস্তুত। ফলে একই সময়ে ধান কাটা ও আমন রোপণের ব্যস্ততায় সময় পার করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লাখাইয়ে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের আমন আবাদ হবে ৩৭৫ হেক্টর এবং উফশী জাতের ধান হবে ৭ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। চলতি মৌসুমে ব্রি ধান-২২, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-১০৩, বিনা-৭ ও বিনা-১৭ জাতের ধানের আবাদ তুলনামূলক বেশি হচ্ছে। লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহাদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়ায় রোপা আমন চাষে তাদের আগ্রহ বেড়েছে। তিনি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, ধানের জাত নির্বাচন এবং মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, কৃষি উপসহকারীরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের চাষাবাদ পদ্ধতি ও ফলন বাড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে রোপা আমন আবাদ হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।