স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের দিগলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং পিলারের লোহার রড বের হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে বিদ্যালয়ের ১০৮ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নিয়মিত খসে পড়ছে পলেস্তারা। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এ অবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিগলবাকসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শিশুদের লেখাপড়ার জন্য বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভবনের বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয় অভিভাবকদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিসকক্ষ নিয়ে বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলেও এরপর ভবনটির উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০৮ জন শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোনো কোনো স্থানে পিলারের লোহার রডও বের হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কাকুলী রানী চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি রুমেই পলেস্তারা খসে পড়ে। এ কারণে শিক্ষার্থীসহ আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি।’ তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির দিনে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করানো কঠিন হয়ে পড়ে। ভবনের এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভীতি তৈরি হয়েছে। এতে তারা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।’ তিনি দ্রুত বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে বলেন, জরাজীর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিভাবকেরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির অবস্থা খারাপ। পলেস্তারা খসে পড়ছে, বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এ অবস্থায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দ্রুত বিদ্যালয়টির সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আগেই চিহ্নিত করা হয়েছে।