সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থের অভাবে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছে না দুলনের মরদেহ হবিগঞ্জে এনসিপির দায়েরকৃত মামলায় ছাত্রদলের নেতাদের জামিন লাভ হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৯ জনকে আসামী করে ছাত্রদল নেতার মামলা রুজু বাহুবলে শ্যামলী বাসের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ১ হবিগঞ্জ আদালতে কোর্ট ফি সংকট ॥ ভোগান্তি সুরমা চা বাগানে ৫০ বছরের পুরোনো সেতুতে ভোগান্তি শহরে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান ॥ আটক ১ শায়েস্তাগঞ্জে গরুবাহী পিকআপে ডাকাতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১ বাহুবলে দ্বৈত হত্যা মামলার আরও ১ আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার চুনারুঘাটে র‌্যাবের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

আজমিরীগঞ্জে শ্রমে আর ঘামে ভেজা জমির ফসল পানির নিচে

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৩৭ বা পড়া হয়েছে

শেখ আমির হামজা, আজমিরীগঞ্জ থেকে ॥ নিজের শ্রম আর ঘামে উৎপাদিত সোনালি ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছ ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক ময়না মিয়া। আকস্মিক পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে বাঁধ ভাঙা পানি কেড়ে নিয়েছে তার স্বপ্ন, রেখে গেছে শুধু এক বুক হাহাকার, শুধু তিনি নন এমন অবস্থা প্রায় কৃষকের। আজমিরীগঞ্জের হাওরাঞ্চলের নিচু এলাকার অসংখ্য কৃষকের গল্প এখন এমনই। ঘাম ঝরানো ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া এসব কৃষকদের চোখে এখন কেবলই অন্ধকার ও ঋনের বুঝা।
কৃষক লকোজ মিয়া জানান- প্রতি কেদার (২৮শতাংশ) জমিতে ধান রোপন করতে মোট খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা, ১ কেদার জমির ধান কাটতে গুনতে হয় ৪/৫ হাজার টাকা ও মারাই করতে খরচ ৩ হাজার টাকা। কিছু জমি কাটলে ও ধান হয়েছে প্রতি কেদার জমিতে ২৪ থেকে ১৬ মন, বিক্রি করতে হয়েছে ৬৫০ টাকা মনে। কিছু জমি কাটা হলে ও অধিকাংশ জমি পানির তলদেশে চলে গেছে, নেই শ্রমিক ও নৌকা নিজের চেষ্টায় যদি কিছু জমি কেটে আনতে পারি তাহলে ঋনের বোঝা একটু হালকা হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় মোট ১৪ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি ও ঢলের কারনে কাকাইলছেও বদলপুর, সদর জলসুখা, শিবপাশা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, নিম্নাঞ্চলের জমি বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ডুবন্ত জমি থেকেই ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। নৌকাযোগে সেই ধান উঁচু জায়গায় আনা হলেও রোদ না থাকায় ধান থেকে নতুন করে চারা গজাচ্ছে। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।
বদলপুর ইউনিয়নের আয়রামুগুর গ্রামের কৃষক ব্রজেন্দ দাস জানান, প্রায় ৫ একর জমিতে ধান রোপন করে এখন পর্যন্ত ২ একরের মত কাটতে পেরেছি বাকি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এই দুর্যোগ পূর্ণ আবহাওয়ায় শ্রমিক সংকট প্রকট হওয়ায় তিনি দিশেহারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শ্রমিক সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ধান দ্রুত কাটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রেজাউল করিম জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে এবং দ্রুত শ্রমিক সরবরাহের চেষ্টা চলছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com