স্টাফ রিপোর্টার ॥ পরিবারের অভাব-অনটন দূর করার স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছিলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচপাড়িয়া গ্রামের যুবক আহমেদ দুলন (২৫)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস-স্বপ্ন পূরণের আগেই কর্মস্থলে অগ্নিকান্ডে প্রাণ হারান তিনি। ঘটনার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থের অভাবে তার মরদেহ দেশে আনতে পারছে না পরিবার। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে না পেরে শোক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের। নিহত আহমেদ দুলন পাঁচপাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রেজ্জাকের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব যান দুলন। সেখানে রিয়াদে অবস্থিত আব্দুল্লাহ আল কুদাইবি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ওই কোম্পানির অধীনে নাইস কোম্পানিতে দায়িত্ব পালনকালে গত ৭ জুলাই কর্মস্থলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তিনি নিহত হন।
নিহতের বাবা আব্দুর রেজ্জাক জানান, সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে ছেলেকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আজ সেই ছেলের মরদেহই দেশে ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য তাদের নেই।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ছেলের লাশ দেশে আনার খরচ বহন করার মতো কোনো সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন, যেন আমার ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে এনে শেষবারের মতো দাফনের সুযোগ করে দেওয়া হয়।”
এদিকে দুলনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্রুত হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনা সম্ভব হয়।
স্বজনদের একটাই আকুতি-প্রবাসে প্রাণ হারানো দুলনের মরদেহ যেন দ্রুত নিজ জন্মভূমিতে ফিরিয়ে এনে ধর্মীয় মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।