মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ মাধবপুর উপজেলার বোয়ালিয়া খালের ওপর নির্মিত একটি পুরোনো সেতু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেতুটির বিভিন্ন অংশে ফাটল, পিলারের ঢালাই ও প্লাস্টার খসে পড়া এবং ভেতরের লোহার রড উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর নিচের একাধিক পিলারের সিমেন্টের আস্তরণ খসে পড়েছে। ফলে ভেতরের লোহার রডগুলো বাইরে বেরিয়ে এসেছে এবং দীর্ঘদিন পানির সংস্পর্শে থেকে মরিচা ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেতুর কয়েকটি অংশের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে সেতুটির কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে দিন দিন এর অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
এ সেতুর ওপর নির্ভর করেই আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ শত শত মানুষ প্রতিনিয়ত এই সেতু ব্যবহার করছেন। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় সেতু পারাপারের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা কাজ করছে।
হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হারুনুর রশীদ বলেন, “এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করে। সেতুর অবস্থা এতটাই নাজুক যে ভারী কোনো যানবাহন উঠলেই এটি কাঁপতে থাকে। আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত একটি নতুন ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা জরুরি।”
হরিশ্যামা গ্রামের স্থানীয় রতন চক্রবর্তী জানান, সেতুর বেহাল অবস্থার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই সেতুটি আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তারা দ্রুত প্রকৌশলগত পরিদর্শন করে সেতুটিকে ঝুঁকিমুক্ত করার পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. রেজাউন নবী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে এখনো আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রকৌশলগত মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”