বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন রেমা-কালেঙ্গা ভয়াবহ সংকটে ॥ ট্রাক ও ট্রলারের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে গ্রামবাসীর ॥ গাছ চোর চক্র বনবিভাগের চেয়ে শক্তিশালী

  • আপডেট টাইম শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮৯ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন রেমা-কালেঙ্গা আজ ভয়াবহ সংকটে। গত এক মাসে বনদস্যুরা এখান থেকে শত শত মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী বলছেন, প্রতিদিন রাতেই ট্রাক ও ট্রলারে করে গাছ পাচার হয়।
রেমা-কালেঙ্গা শুধু একটি বন নয়, এটি দেশের জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল ভান্ডার। এখানকার শত শত প্রজাতির প্রাণী, পাখি ও গাছ এখন অস্তিত্বের সংকটে। পাচার হওয়া গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মহুয়া, চাপালিশ, গর্জন, গামার, জামরুল ও মেহগনি—যেগুলোর বাজারমূল্য প্রতি ঘনফুটে কয়েক হাজার টাকা। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এই হারে গাছ কাটা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বনটির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। প্রাণিকূল হারাবে আশ্রয়, আর স্থানীয়রা হারাবে জীবিকার উৎস।
এলাকার সচেতন মহল দাবি তুলেছে, অবিলম্বে যৌথ অভিযান চালিয়ে গাছ চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। বনাঞ্চলে বাড়াতে হবে টহল, স্থাপন করতে হবে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—বন রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা। তারা যদি পাহারায় যুক্ত হয়, তাহলে চোর চক্রের তৎপরতা অনেকটাই কমে যাবে।
রেমা-কালেঙ্গা বন, সমগ্র বাংলাদেশের সম্পদ। অথচ এই বনই এখন ধ্বংসের মুখে। এক মাসে অনেক টাকার গাছ কেটে ফেলা মানে কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি পরিবেশের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। এখন সময় এসেছে কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। তা না হলে মানচিত্রে রেমা-কালেঙ্গা নামটাই শুধু থেকে যাবে, বন থাকবে না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশেই এই পাচার চলছে। রাতের অন্ধকারে ট্রলারের শব্দে ঘুম ভাঙে বনপথের গ্রামবাসীর। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কারণ বনদস্যুরা ভয়ঙ্কর এবং সশস্ত্র।
কালেঙ্গা রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, গাছ চোর চক্র আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আমরা পুলিশ নিয়েও অনেক সময় তাদের ঠেকাতে পারি না।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com