সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

নবীগঞ্জে চা শ্রমিকদের সংকট সমাধানে ঢাকাস্থ সচিবালয়ে বৈঠকের উদ্যোগ ॥ বৃহৎ কর্মসূচি স্থগিত ॥ আশ্বাসে আর বিশ্বাস নেই চা শ্রমিকদের

  • আপডেট টাইম রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩
  • ২৯০ বা পড়া হয়েছে

ছনি আহমেদ চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতাধিসহ যাবতীয় দাবি পাওনা পরিশোধে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গতকাল শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রফিকুল ইসলাম সরেজমিনে ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রিয়াংকা পাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরীয়ার ও বাগানের ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রফিকুল ইসলাম বলেন- (২২ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মালিকপক্ষকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সেই বৈঠক থেকে সমাধানে যথাযাথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এদিকে সচিবালয়ে বৈঠকের উদ্যোগ গ্রহণ করায় পূর্বঘোষিত (২১ আগস্ট) চা শ্রমিকদের কর্মসূচি সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়। কিন্তু বার বার আশ্বাসের দিয়ে কোন প্রকার সমাধান না হওয়ায় আশ্বাস থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে শ্রমিকদের। চা শ্রমিকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নে অবস্থিত ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগান। এই দুটি বাগানে কাজ করেন ৩৬০ জন চা শ্রমিক। বাংলাদেশীয় চা-সংসদ ও বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত শ্রমচুক্তি মোতাবেক তাদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করছেনা মালিকপক্ষ। এনিয়ে গত ২৫ জুন চা শ্রমিকদের ৭ দফা দাবী বাস্তবায়ন করার জন্য ইমাম টি এস্ট্রেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবর লিখিত ভাবে জানায় চা শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের অভিযোগ আমলে না নেওয়ায় ৩ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত কর্মবিরতী পালন করে চা শ্রমিকরা। শ্রমিকদের দাবী, ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের ৩৬০ জন শ্রমিকের শ্রমচুক্তি মোতাবেক শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি/এরিয়ার অর্থ বাবদ ২০১৯-২০ ও ২০২১-২২ অর্থ বছরের ৮১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, এরিয়া বোনাসের ১৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা পরিশোধ করছেনা মলিকপক্ষ। এছাড়া চা বাগান শ্রমিক ভবিষ্যত তহবিলের (পিএফ) ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মালিক পক্ষ পিএফ কার্যালয়ে জমা প্রদান না করার ফলে অবসর প্রাপ্ত শ্রমিকগণ পিএফ অর্থ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে চা শ্রমিকদের রোদ-বৃষ্টিতে বাসস্থানে অবস্থান করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত তারা। সংকট সমাধানে (১১ জুলাই) বিকেলে শ্রীমঙ্গল বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের সমঝোতায় বৈঠকে বসে ইমাম টি এস্ট্রেট লিমিটেড ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এ সময় ইমাম টি এস্ট্রেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জিকে মাইনুদ্দিন চৌধুরী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি/এরিয়ার অর্থ পরিশোধ ও ৩০ আগস্টের মধ্যে ভবিষ্যত তহবিলের টাকা পিএফ কার্যালয়ে কিস্তি আকারে জমাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানে আশ্বাস দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে এনিয়ে চুক্তি সই হয়। এরপর ১২ জুলাই থেকে কাজে যোগদেন শ্রমিকরা। ১৮ জুলাই বকেয়া মজুরি/এরিয়ার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় মালিক পক্ষ। পুনরায় নতুন তারিখ হিসেবে ২০ জুলাই বকেয়া টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়া হয়। ২০ জুলাইও বকেয়া পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ। এছাড়া ১২ জুলাই হতে ২০ জুলাই পর্যন্ত চা শ্রমিকরা বাগানে কাজ করলেও ৮ দিনের দৈনিক তলব (মুজুরী) ও রেশন শ্রমিকদের দেয়নি মালিকপক্ষ। ফলে শুক্রবার (২১ জুলাই) থেকে আবার কর্মবিরতি পালন শুরু করে শ্রমিকরা। গত (২২ জুলাই) ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে চা শ্রমিকরা। (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ইমাম ও বাওয়ানী বাগানের চা শ্রমিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এ সময় চা শ্রমিকদের দাবীপূরণসহ বর্তমান মালিকপক্ষের লিজ দ্রুত বাতিল করে নতুন মালিক নিয়োগ করে বাগান পরিচালনা করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এ সময় জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মালিকপক্ষ (৩০ জুলাই) বকেয়া অর্থ পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়। ফের আশ্বাস ভঙ্গ করে মালিকপক্ষ। ৩০ জুলাই টাকা না দেওয়ায় (২ আগস্ট) পুনরায় মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বার বার আশ্বাস দিয়েও বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ। ফলে গত ২১ জুলাই থেকে টানা কর্মবিরতিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের চা শ্রমিকরা। মালিকপক্ষের বৈষম্যের প্রতিবাদে (২১ আগস্ট) নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার ৬-৭ টি চা-বাগানের চা শ্রমিকদের নিয়ে মহাসড়কে অবস্থানসহ বৃহৎ কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন। সচিবালয়ে বৈঠকের উদ্যোগ গ্রহণ করায় পূর্বঘোষিত (২১ আগস্ট) চা শ্রমিকদের কর্মসূচি সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com