বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

বাহুবলে ছুরিকাঘাতে নিহত প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন ॥ পরিবারে চলছে শোকের মাতম

  • আপডেট টাইম সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১৮
  • ৫৪৭ বা পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি ॥ বাহুবলে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত ওয়াহিদ মিয়ার লাশের ময়না তদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার বাদ মাগরিব পুটিজুরী শাহী ঈদগাহে নামাজে জানাযা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টায় পুটিজুরী বাজারে শাহনেওয়াজ আলম নামে এক যুবকের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। নিহত ওয়াহিদ মিয়া উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের বাঘেরখাল গ্রামের আব্দুল্লাহর পুত্র। এ ঘটনায় ছুরিকাহত তার ভাই কাওসার মিয়া ও চা স্টল মালিক আব্দুল আলী সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নিহতের পরিবারের চলছে শোকের মাতম। এতে এলাকার আকাশ বাতাস হয়ে উঠেছে ভারী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার পুটিজুরী বাজারের ফুটপাতের স্টলে শেওড়াতুলী গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের পুত্র শাহ নেওয়াজ হোসেন উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে বাঘেরখাল গ্রামের আব্দুল্লাহর পুত্র ওয়াহিদ মিয়া (৪০) ও তার সহোদর কাওসার মিয়া (২৫) কে। এ সময় চা স্টল মালিক একই গ্রামের আব্দুল আলীও (৩৭) ছুরিকাহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন তাদের বাহুবল হাসপাতালে নিয়ে এলে ওয়াহিদ মিয়াকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন এবং কাওসার ও আব্দুল আলীকে সিলেট প্রেরণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের শেওড়াতুলি গ্রামের গরু ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন (৪৫) স্বস্থিপুর গ্রামে গরু কিনতে গিয়ে নিকটবর্তী স্নানঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলমের কাছে নাজেহাল হন। বিষয়টি জানার পর নিজাম উদ্দিনের স্বজন একই গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের পুত্র শাহনেওয়াজ হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলমের উপর। এ বিরোধের জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলমকে মারধোর করতে শাহনেওয়াজ হোসেন ছুরি নিয়ে পুটিজুরী বাজারে অবস্থান নেয়। শনিবার রাত ৮টার দিকে শাহনেওয়াজ হোসেন পুটিজুরী বাজারের ফুটপাতে স্থাপিত আব্দুল আলীর চা স্টলে বসে চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলমকে গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে অতিউৎসাহে বাঘেরখাল গ্রামের আব্দুল্লাহর পুত্র দুবাই প্রবাস ফেরত ওয়াহিদ মিয়া (৩৫) প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ শাহনেওয়াজ হোসেন ছুরিকাঘাত করে ওয়াহিদ মিয়াকে। সাথে সাথে এগিয়ে আসেন স্টল মালিক আব্দুল আলী (৩৭) ও ওয়াহিদ মিয়ার ভাই কাওসার মিয়া (২৫)। এ সময় আব্দুল আলী এবং কাওসার মিয়াও ছুরিকাহত হন।
ঘটনার খবরে বাঘেরখাল গ্রামের লোকজনের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন কয়েক দফা পুটিজুরী বাজারে উঠে প্রতিপক্ষের লোকজনকে খোজাখুজি করে। এ সময় আরো দু’ব্যক্তি আহত হন।
এদিকে, গতকাল রোববার বিকালে ময়না তদন্ত শেষে নিহত ওয়াহিদ মিয়ার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এলে সেখানে এক হৃদয়বিদার দৃশ্যের আবতারণা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আর্তনাদে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com