স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ পৌরসভায় সরকারি অর্থে কেনা কোটি টাকা মূল্যের যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। পৌরসভার দুটি রোড রোলার ও একটি ট্রাক দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় যানবাহন গুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেছে। কোথাও ধরেছে জং, কোথাও জমেছে শেওলা ও লতাপাতা। একটি রোড রোলারের টায়ার মাটির নিচে দেবে গিয়ে সেটি এখন মাটিতে মিশে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সরকারি অর্থে কেনা মূল্যবান এসব যানবাহন বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হলেও সেগুলো সংরক্ষণ, মেরামত কিংবা বিকল্প ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নবীগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পৌর ভবনের সামনে পড়ে রয়েছে দুটি রোড রোলার। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় রোলার দুটির বিভিন্ন অংশে জং ধরেছে। একটি রোড রোলারের টায়ার মাটিতে দেবে যাওয়ায় সেটি রিংয়ের ওপর ভর করে রয়েছে। অন্যদিকে, অচল ট্রাকটির বিভিন্ন অংশে শেওলা জমেছে। কোথাও কোথাও গজিয়েছে লতাপাতা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় পুরো যানবাহনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থার চেহারা নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের অর্থে কেনা মূল্যবান এসব যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। অথচ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে খানাখন্দ এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হওয়া পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয়রা বলেন, সরকারি সম্পদ এভাবে ফেলে রেখে নষ্ট করার পরিবর্তে দ্রুত যানবাহনগুলোর প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করা প্রয়োজন। মেরামতযোগ্য যানবাহন দ্রুত সংস্কার করে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সম্পূর্ণ অকেজো যানবাহন বিধি অনুযায়ী নিলামে বিক্রি কিংবা অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধের পাশাপাশি পৌরসভার আর্থিক ক্ষতিও কমানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. শহিদুল হক বলেন, পৌরসভার দুটি রোড রোলারই অকেজো। এর মধ্যে একটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব হতে পারে, অন্যটি চালু করা সম্ভব হবে না। একটি রোড রোলার আনুমানিক দুই বছর এবং অন্যটি আরও দীর্ঘ সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। তবে ঠিক কতদিন ধরে এগুলো অচল, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। অচল ট্রাকটিও সম্পূর্ণ অকেজো বলে জানান পৌরসভার এই প্রকৌশলী। তিনি বলেন, “এগুলো অনেক পুরোনো এবং যন্ত্রাংশও খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।”
অচল যানবাহন গুলো মেরামত কিংবা নিলামে বিক্রির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. শহিদুল হক বলেন, একবার মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছিল এবং তিনি তথ্য দিয়েছেন। তবে বর্তমানে এসব যানবাহনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি। সরকারি অর্থে কেনা এসব মূল্যবান যানবাহন দ্রুত সংরক্ষণ, মেরামত অথবা বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকারি সম্পদের অপচয় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।