বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী নবীগঞ্জে অধ্যক্ষ হুমায়ুনকে শোকজ টিউশন ফি নিয়ে টালবাহানা, সরকারি নির্দেশনা অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ফনি ভুষন দাশ আর নেই নবীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো “গানে গানে জুলাই” শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান বাহুবলে মাছের খামারে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার ॥ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রিংগনকে হুমকিদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ-পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ॥ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ॥ সৎ মা ভাইয়ের হাতে শিশু খুনের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৮
  • ৭১১ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা শাবাজপুর গ্রামে সৎ মা ভাইয়ের হাতে রুহুল আমিন নামে ১০ বছরের এক শিশু নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশ রুহুল আমিনের সৎ ভাই নাসির মিয়াকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে রুহুল আমিনের সৎ মা জোস্না বেগম, জোস্না বেগমের বোন সেতেরা বেগম, গ্রেফতারকৃত নাসির মিয়ার স্ত্রী সুজানা বেগম। গতকাল হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দোষীদের ফাসি দাবী করেছেন নিহত রুহুল আমিনের মা বেদেনা বেগম। শিশু রুহুল আমিন হত্যাকান্ডের বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও তার সৎ ভাই নাসির মিয়া গ্রেফতারের পর হত্যাকান্ডের মূল মোটিভ উদ্ধার হতে শুরু করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিশু রুহুল আমিনের বাবা ছিদ্দিক আলী ২ বিয়ে করেন। ছিদ্দিক আলীর অপর স্ত্রী জোস্না বেগমের সাথে বনিবনা না হওয়ায় রুহুল আমিনের মা বেদেনা বেগম তার বাবার বাড়ি চুনারুঘাটের ডেওয়াতলী গ্রামে বসবাস করতেন। ছিদ্দিক আলীর গ্রামের বাড়ি শাবাজপুরে আদারিশার মাজারে ওরশ ও মেলা উপলক্ষে গত ২২ ফেব্র“য়ারী ডেওয়াতলী থেকে শিশু রুহুল আমিন ও কন্যা সন্তান সুমাইয়া আক্তারকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে আসেন ছিদ্দিক আলী। এরপর শিশু রুহুল আমিন নিখোজ হয়। নিহত রুহুল আমিনের মাতা বেদেনা বেগম অভিযোগ করেন- নিখোজ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোজ খবর নিতে থাকলে তার সতীন জোৎস্না বেগম তার বোন কথিত কবিরাজ সেতেরা বেগমের কাছে নিয়ে গেলে জ্বীনের মাধ্যমে তাকে জানান- “তোমার ছেলে খুবই সুন্দর, তাই জ্বীন পরী তাকে নিয়ে গেছে। জ্বীন পরীরা তাকে আকাশে আকাশে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বেশি খোজাখুজি করলে আরও ক্ষতি হতে পারে।” পরে ২৭ ফেব্র“য়ারী সতীন জোৎস্না বেগমের বসতবাড়ির একটি বালুর স্তুপ থেকে শিয়াল কুকুরের মাধ্যমে রুহুল আমিনের মৃত দেহের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর বেদেনা বেগমকে একটি লিখিত এজাহারে টিপসই দিতে বলে সতিন পুত্র নাসির মিয়া ও তার লোকজন। পরবর্তীতে দেখা যায় সতীনপুত্র নাসির মিয়া যে আব্দুল হাই হত্যা মামলার আসামী সেই মামলার বাদী পক্ষের লোকজনকে আসামী দেখানো হয়েছে। বেদেনা বেগম জানান- আমি পড়ালেখা জানিনা। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আমার টিপসই নেয়া হয়। সেখানে কে আসামী কে বাদী আমাকে জানানো হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন-আমার শিশু পুত্রকে নাসির ও তার মা জোৎস্না বেগম এবং তাদের সহযোগিরা হত্যা করে তাদেরই বালুর স্তুপে রেখেছে। শিশু রুহুল আমিন নিখোজের পর নাসির মিয়া ও তার স্ত্রী সুজানা বেগম কিশোরগঞ্জে পালিয়ে যায়। অন্যরাও বাড়ি থেকে চলে যায়। ইতিমধ্যে পুলিশ নাসির মিয়াকে গ্রেফতার করে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com