মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী নবীগঞ্জে অধ্যক্ষ হুমায়ুনকে শোকজ টিউশন ফি নিয়ে টালবাহানা, সরকারি নির্দেশনা অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ফনি ভুষন দাশ আর নেই নবীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো “গানে গানে জুলাই” শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান বাহুবলে মাছের খামারে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার ॥ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রিংগনকে হুমকিদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ-পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ॥ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

বাহুবলের বসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খোলা ছাউনীতে বসে পাঠগ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৭
  • ৬৯১ বা পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি ॥ বাহুবলের বসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ করছে খোলা ছাউনীতে। বর্ষায় তাদের বসানো হয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অথবা পার্শ্ববর্তী মক্তবঘরে। ৪ বছর আগে বিদ্যালয়ের মূল ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন কবে নির্মাণ হবে- তা কেউ বলতে পারছে না। ফলে দিন দিন বিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বাধ্য হয়ে গ্রামের শিশুরা কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে।
বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের ৮৬নং বসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ সালে ওই গ্রামের মরহুম মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হোসেন এর পিতা মরহুম শামছুল হোসেনের দানকৃত ৩৩ শতক ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম দিকে এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে একচালা একটি ঘর নির্মাণ করে ৬ বছর বিদ্যালয়টি পরিচালনা করা হয়। ১৯৯৪ সালে স্কুলটি রেজিস্ট্রেশন লাভ করলে এলজিডি’র তত্ত্বাবধানে সরকার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩টি ক্লাসরুম ও একটি অফিস ক বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দায়সারা ভাবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার ফলে কিছুদিন যেতে না যেতেই ভবনের একাংশে ফাটল দেখা দেয়। এরপর দ্রুতই ভবনটির সিমেন্ট-বালি কষে পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে জরাজীর্ণ ভবনে শিশু শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে পাঠগ্রহণ করতে বাধ্য হয়। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে ২০১২ সালে উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দেয়া হয়। এরপর থেকে শুরু হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দূর্ভোগ। আর এই দূর্ভোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে সমাপনী পরীক্ষায় ধারাবাহিক ভাল ফলাফল অর্জন করায় ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের পর টানা তিন বছর বর্ষা মৌসুমে পার্শ্ববর্তী মক্তব ঘরে আর শুকনো মৌসুমে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে চলে পাঠদান কার্যক্রম। ২০১৫ সালে উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন খাত থেকে এক লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট লম্বা টিনসেডের একটি খোল ছাউনী তৈরি করে দেয়া হয়। কিন্তু ওই ছাউনির বেড়া না থাকায় বর্ষা মৌসুমে সেখানে পাঠদানের উপযোগিতা থাকে না। তাই বর্ষা এলে শুরু হয় দৌঁড়-ঝাপ, টানা-হেছড়া। পার্শ্ববর্তী মক্তব ঘর অথবা পরিত্যাক্ত ভবনেই শিশুদের নিয়ে শিক্ষকরা পাঠদান করতে বাধ্য হন শিক্ষকরা।
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শিহাব উদ্দীন জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে আমাদের বেঞ্চ ও ডেক্স ভবন থেকে বের করে এনে ছাউনীতে ক্লাস করতে হয়। বিকেলে আবার ওইগুলো ভবনের ভিতরে রেখে যেতে হয়। এতে প্রায়ই আমাদের দূর্ঘটনার স্বীকার হতে হয়, পরিশ্রমও করতে হয় অনেকটা বাধ্য হয়ে।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই জানান, এই স্কুলে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২০৫ জন ও শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত আছেন ৫ জন। পরিত্যক্ত ভবনেই দীর্ঘদিন যাবত ঝুঁকি নিয়ে অফিস কক্ষ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিবেশে পাঠদান করেও প্রতি বছরের ন্যায় গত বছরও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণী পরিায় দুইটি বৃত্তিসহ শতভাগ পাশের মাধ্যমে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছি। ভবনের ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের বরাবরে আবেদন করেও আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন আশ্বাস পাচ্ছি না। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে ভবন নির্মাণ না হলে বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হবে। তিনি আরো জানান, গতবছরের শেষ দিকে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য এডঃ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কর্তপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এখলাছুর রহমান জানান, বর্ষাকালে ওই পরিত্যক্ত ভবনেই পাঠদান চালাতে হয়। ফলে অনেক অভিভাকরা দূর্ঘটনার ভয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে বাড়িতে প্রাইভেট শিক্ষক রেখে পড়ান। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে জরাজীর্ণ পরিবেশে শিশুদের পাঠদানের কারণে অনেক বিত্তবান ও মধ্যবিত্ত অভিভাবক সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করাচ্ছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জ্যোতিষ রঞ্জন চন্দ বলেন, উপজেলায় এ রকম ২৬টি বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। অধিদপ্তর বিষয়টি বিবেচনায় না আনলে আমাদের কিছু করার নেই। খোলা পরিবেশে আর কতদিন শিশুরা পাঠগ্রহণ করবে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত বছর দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে একটি টিনশেড নির্মাণ করে দিয়েছি, তো আমরা আর কি করব।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কেয়া চৌধুরী এমপি বলেন, আমি অন্য এক প্রোগ্রামে গিয়ে বসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করি। এ সময় বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় খোলা ছাইনীতে ক্লাশ নিচ্ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমিনা খানম। দৃশ্যটি আমাকে মারাত্মক ভাবে নাড়া দেয়। খোজ নিয়ে জানলাম বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি ৪ বছর আগে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে আমি মোবাইল ফোনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব-এর সাথে কথা বলি। তিনি আমাকে এরূপ বিদ্যালয়ের তালিকা দিতে বলেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ জাতীয় বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন। এ প্রেক্ষিতে আমি একটি ডিও লেটারের মাধ্যমে বসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি বিদ্যালয়ের তালিকা প্রেরণ করেছি। আশা করি অচিরেই এ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা হবে। তিনি বলেন, আমি খোজ নিয়ে জানলাম উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের তালিকায় এ বিদ্যালয়ের নাম নেই। যা আমাকে রীতিমতো আশ্চর্য করেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com