বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

নবীগঞ্জে শীতের পিঠা তৈরী ও বিক্রিতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা

  • আপডেট টাইম সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৬
  • ৭৮৯ বা পড়া হয়েছে

কিবরিয়া চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে ॥ শীতের আগমনী বার্তায় নবীগঞ্জে মৌসুমী শীতের পিঠা ব্যবসায়ীরা তৎপর হয়ে উঠেছে। শীত এলেই এক শ্রেনীর খেটে খাওয়া মানুষ পিঠার ব্যবসায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন রকমের দেশীয় পিঠা তৈরী ও বিক্রি করে তারা। নবীগঞ্জ শহর, আউশকান্দি, রুস্তমপুরসহ বিভিন্ন ফুটপাতে বসে মাটির চুলায় কয়লা-লাকড়ী পুড়িয়ে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা পিঠা তৈরী ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। পিঠা প্রেমিক মানুষ শীতের পিঠার স্বাদ গ্রহন করতে ফুটপাতের এসব পিঠার দোকানে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকেই পিঠার দোকানের চুলার পাশে বসে গরম-গরম পিঠা খেতে দেখা গেছে। আবার অনেকেই পরিবারে চাহিদা মতো ক্রয় করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর ব্যবসায়ীরা, ক্লাবে ও যুবকদের আড্ডায় পিঠার আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে। তবে শ্রমজীবি, রিক্সা চালাক, ড্রাইভার, শ্রমিকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় খাবার শীতের পিঠা। শীত এলেই নবীগঞ্জ পৌর শহরের রাজাবাদ মোড়ে, আউশকান্দি চত্তরে ও রস্তমপুর ষ্ট্যান্ডে পিঠার দোকান বসে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও উপজেলা জুরে বেশ কয়েকটি পিঠার দোকান বসতে দেখা গেছে। পিঠা ব্যবসায়ীদের মধ্যে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও বেশ এগিয়ে রয়েছেন। পিঠা ব্যবসায়ীরা একদিকে বেকারত্ব দূরীকরন ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশীয় সংস্কৃতি লালন করে বাঁচিয়ে রাখছেন দেশের ঐতিয্য। আধুনিকতায় গা ভাসিয়ে শহর-বাজারে লোকজন ফিজা, কেক, মোগলাই ও বিভিন্ন তৈলাক্ত খাবারে মত্ত হয়ে দেশের প্রচলিত চালের গুরা, আটা, ময়দা ও গুরের তৈরী পিঠার কথা অনেকেই ভুলতে বসেছে। এ দিক থেকে বিষয়টি বিবেচনায় আনলে এবং শীতের পিঠা বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পিঠা তৈরী ও বিক্রি করার পরামর্শ দিলে ব্যবসায়ী ও দেশীয় সংস্কৃতি উভয়টাই রক্ষা হবে। বেশ কয়েকটি পিঠার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, চালের গুরার সাথে আটা বা ময়দা মিশিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ভাপা পিঠা, ডুবা পিঠা, পাঠিসাপটা, চিতই পিঠার মতো বিভিন্ন দেশীয় জাতের পিঠা। এসব পিঠার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল অনুযায়ি বিভিন্ন নাম হয়ে থাকে। রুস্তমপুর ষ্ট্যান্ড সংলগ্ন পিঠার দোকান খুলেছেন রুস্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা আলফু মিয়া। তিনি চালের গুরার সাথে পরিমান মতো লবন মিশিয়ে তৈরী করছেন চিতই পিঠা। ছোট-ছোট কয়েকটি চুলা দিয়ে কয়েল লাখড়ী পুড়িয়ে এ পিঠা ব্যবসায়ী প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পিঠা তৈরী ও বিক্রি করে থাকেন। ক্রেতাদের বসার জন্য চুলার পাড়েই বেঞ্চ রাখা হয়েছে। তৈরী চিতই পিঠার সাথে শিদল চাটনী, সরষে বাটা ও ধনিয়াপাতা বাটা দিয়ে পরিবেশন করেন। সন্ধ্যা থেকেই ক্রেতাদের উপছে পড়া ভিড় লেগে থাকে। অনেক সময় পরিবেশনে বিলম্ব হলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মান-অভিমান হলেও পিঠা সংগ্রহে পিছ পা হচ্ছেন না ক্রেতারা। আউশকান্দি কিবরিয়া চত্তরে এক পিঠা ব্যবসায়ী জানান, গরমে তিনি অন্য ব্যবসায় জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু শীত মৌসুমের প্রথম থেকেই তিনি চিতই পিঠা বিক্রি করেন। ক্রেতারাও এ পিঠা বেশ পছন্দ ও আগ্রহভরে গ্রহন করছেন তার তৈরী পিঠা। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার মতো পিঠা ও ডিম বিক্রি করে থাকেন। এতে তার বেশ মুনাফা হয় বলে জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com