বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

নবীগঞ্জে নজাফতকে গ্রেফতার দাবীতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ॥ প্রকাশ্যে আসামী ঘুরলেও গ্রেফতার করছে না পুলিশ

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৫২২ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের জন্তরী গ্রামের মুক্তিযোদ্বা সন্তান গোপাল সরকারকে কেরোসিন দিয়ে আগুনে পুড়ি হত্যা চেষ্টার ঘটনায় নজাফত মিয়াকে গ্রেফতারের দাবী জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্বা সন্তান কমান্ড।
গোপাল সরকারের ভাই মামলার বাদী রাখাল সরকার তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৭ বছর পুর্বে আমার বাবা প্রয়াত গৌরাঙ্গ সরকার যখন মারা যান তখন নজাফত মিয়ার হুমকির মুখে শ্মশ্বান ঘাটে দাহ করতে না পেরে বাড়ীতে দাহ করতে বাধ্য হই। অনুরুপ ভাবে বিগত ৪ বছর পুর্বে আমার ঠাকুর মা মারা গেলে নজাফতের হুমকির মুখে দাহ করতে পারিনি। সারা দিন অনুরোধ করার পর শুধু মাত্র মাটিতে ফুতে রাখার অনুমতি দেয়। এর পর থেকে আমাদের শ্মশ্বানের জায়গা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে নজাফত মিয়া। সে এই শ্মশান ব্যবহার না করার জন্য বাধা ও আপত্তি করে আমাদের নিরিহ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের। এক পর্যায়ে দাফট দেখিয়ে শ্মশ্বানের জায়গা জবর দখল করে ফেলে নজাফত মিয়া। কিন্তু তার ভয়ে আমরা কেউ কথা বলতে সাহস পাইনি। পরে নজাফতের নিকট থেকে শ্মশ্বানের জায়গা উদ্ধারের জন্য আমার ভাই গোপাল সরকার হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্থানীয় তহশীলদারের স্মারক নং- ৫৮ ধারায় ১১/০৬/১৫ই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গোপালের পরিবারসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ওই জায়গাটি শ্মশ্বান হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দেন। এর পরই নজাফত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আমার ভাই গোপালের উপর। এক পর্যায়ে গত ২১ আগষ্ট শুত্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে নজাপত ও তার লোকজন নবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের নিকটস্থ রুহুল মিয়ার দোকানের সামনে আমার ভাই গোপাল সরকারকে ডেকে নিয়ে আসে এবং নজাফত গোপালকে হুমকি দামকি দিয়ে বলে এই শ্মশ্বানটি তোমরা আর ব্যবহার করবেনা এবং শ্মশ্বানের এই জায়গাটি তোমাদের প্রয়োজন নেই মর্মে একটি লিখিত দিতে হবে। এতে গোপাল রাজি না হওয়ায় তাকে লাথি, কিল, ঘুষিসহ হাতুরে মারপিট করে এবং গোপালকে ওই শ্মশ্বানেই হত্যা করিবে বলেও হুমকি দিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। ওই দিনই রাত অনুমান ১২টার দিকে আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমার ভাই গোপালকে দেশীয় প্রাণ নাশক অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে গোপালের কক্ষে গিয়ে প্রাণে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে মারপিট করে। এক পর্যায়ে নজাফতের ছেলে খালেদ মিয়া গোপালের শরীরে কেরোশিন ডেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গোপালের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থান ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আশংকাজনক অবস্থায় আমার ভাইকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় আমি রাখাল সরকার বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় নজাফতকে প্রধান আসামী তার দু’পুত্র খালেদ, জুনেদ ও এনামুল মিয়া, মছরত উল্লাহ, শহীদ মিয়াসহ ১৪/১৫জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করি। কিন্তু থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারনে আজ ৪দিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামীকে গ্রেফতার করেনি। আসামীরা প্রকাশ্যে বাজারে চলাফেরা করলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা পুলিশ। এ সময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্বা সংসদ সন্তান কমান্ড নবীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম লিখিত বক্তব্যে বলেন, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে যদি নজাফত ও তার অনুসারীদের গ্রেফতার করা না হয় তাহলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। আমাদের সাথে ইতিমধ্যেই গনজাগরন মঞ্চের মুখ্যপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার’র সাথে যোগাযোগ হয়েছে। তিনি আমাদেরকে রাজাকার আলবদরদের বিরুদ্বে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তিনি নবীগঞ্জে এসে আমাদের সাথে আন্দোলন সংগ্রামে সহযোগীতা করবেন বলেও আশ্বস্থ করেন। ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম আরো বলেন, রাজাকার নজাফত ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে অসংখ্য হিন্দু বাড়ীঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে প্রচুর ভু-সম্পত্তি জবর দখল করে আজ অবদি বহাল তবিয়তে আছে। মুক্তিযোদ্বা সন্তান গোপালকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় আজ পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ের কোন জনপ্রতিনিধি ওই পরিবারকে শান্তনা দেয়া কিংবা সহযোগীতা করতে যাননি। নবীগঞ্জের সিভিল প্রশাসন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্বা কমান্ডার নুর উদ্দিন আহমদ বীর প্রতিক, ডেপুটি কমান্ডার মৌলদ হোসেন কাজল, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক সুখেন্দু রায় বাবুল, হিন্দু মহাজোটের সাধারন সম্পাদক প্রভাষক উত্তম কুমার পাল হিমেল এবং নবীগঞ্জের সাংবাদিক বন্ধুগন তাদের লেখনির মাধ্যমে যে সহযোগীতা করেছেন আমরা তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সন্তান কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক গৌতুম কুমার দাশ, সদস্য সচিব রতœদীপ দাস রাজু, সদস্য মৃনাল কান্তি দাশ, আক্তারুজ্জামান কমল, নিজামুল ইসলাম চৌধুরী, অরবিন্দু দাশ, সুবিনয় দাশ, বিপুল দাশ, দিপক সরকার প্রমুখ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com