বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

সোনার দাম কমছে কেন

  • আপডেট টাইম শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৫
  • ৫০০ বা পড়া হয়েছে

এক্সপ্রেস ডেস্ক ॥ হলুদ ধাতুটির দাম এই মুহূর্তে ব্যাপক পড়তির দিকে। ২০১১ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ পড়ে গেছে। প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ডলারের দিকে নামছে। টানা ১০ দিন দাম কমেছে। ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম এ রকম টানা দরপতন হলো।
সোনার দাম এত কমল কেন ? এর মূলে তিনটি কারণ : ১. যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্ত অবস্থান, ২. চীনের কম সোনা কেনা ও ৩. মূল্যস্ফীতিতে মনোযোগ না দেওয়া। ডলারের শক্ত অবস্থান : যেসব পণ্যের পরিমাপ ডলারে হয় সেগুলোয় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের ক্রেতাদের এগুলো বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। সোনার ক্ষেত্রে দুভাবে আঘাত করে, কারণ মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রার অবনমন ঘিরে এই মূল্যবান ধাতুটির দাম ওঠানামা করে।
সোনা সরবরাহকারী গোল্ড বুলিওন ইন্টারন্যাশনালের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বব অ্যাল্ডারম্যান বলেন, ‘ডলারের শক্তিমত্তার সঙ্গে সোনা পরাজিত হচ্ছে। গত সপ্তাহজুড়ে ঝড়ের মতো বয়ে গেছে।’
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার বেশির ভাগ মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম কমে গেলে সোনার দামে কিছুটা স্বস্তি আসে। তবে অনুমান করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসে ডলারের দাম বেড়ে যাবে।
চীন, ইরান ও গ্রিস : চীন কতখানি সোনা মজুদ করছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই খবর জানানোর স্রেফ কয়েক মিনিটের মধ্যে এক আউন্স সোনার দাম ৪০ ডলার পর্যন্ত কমে যায়। এই থেকে বোঝা যায়, আগের তুলনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনা উৎপাদনকারী দেশটি ধীরগতিতে সোনা মজুদ করছে। এতে সোনাশিল্পে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ফলেও সোনায় আঘাত পড়েছে। পশ্চিম বিশ্বের সঙ্গে ইরানের যুগান্তকারী পরমাণু চুক্তির ফলে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলটিতে সংঘর্ষের আশঙ্কা কমে যায়। অথচ সেই আশঙ্কার ফলে অধিক হারে সোনা ও তেলের বাণিজ্য হতো।
একইভাবে শেষ মুহূর্তে এসে গ্রিসের সঙ্গে ঋণদাতাদের চুক্তি হয়। ফলে দেশটি ইউরোজোনেই থেকে যায়। বিনিয়োগকারীরা এখন গ্রিসের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে আশঙ্কা করছে না। বব অ্যাল্ডারম্যান বলেন, ‘নতুন আর্থিক পুনরুদ্ধার সহায়তার ফলে ক্ষতির আশঙ্কা কমে যায়। এটা সোনার জন্য ভালো নয়।’
মূল্যস্ফীতি : এটা নিয়ে কেউ কথা বলছে না। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে যখন সোনার দাম এক হাজার ৯০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, কিছু বিনিয়োগকারী সোনা কিনে রাখে কারণ তারা আশঙ্কা করেছিল ফেডারেল রিজার্ভ (যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) যদি মুদ্রা ছাপে, তাহলে খুব দ্রুত মুদ্রাস্ফীতি হবে। তবে সুদের হার খুব কম রেখে এবং ব্যাপক হারে সঞ্চয়পত্র কিনেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্য পূরণ হয় না।
কানাডাভিত্তিক আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ জেরো বলেন, ‘পাঁচ হাজার বছর ধরে মজুদমূল্য হিসেবে সোনা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যখন মুদ্রাস্ফীতি থাকবে তখন এর মজুদমূল্য থাকবে। এ মুহূর্তে কোনো মুদ্রাস্ফীতি নেই।’
সোনার দাম কি এক হাজার ডলারের নিচে নেমে যাবে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো ফেডারেল রিজার্ভ যখন সুদের হার বাড়াতে শুরু করবে, তখন কী হবে। এই সুদের হার বাড়লে কেবল ডলার শক্তিশালী হবে, ফলে সোনার ওপর চাপ আরো বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান সাচস-এর পণ্য বিভাগের প্রধান জেফরি কুরি সতর্ক করে বলেন, ২০০৯ সালের পর এই প্রথম সোনার দাম এক হাজার ডলারের নিচে নেমে গেল।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com