নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জ পৌরসভার অভয়নগর এলাকায় যৌতুকের কারনে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বেদরক মারপিট করে পাষন্ড স্বামী সবুজ মিয়া। ফলে ৪ মাসের গর্ভের সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় স্ত্রী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সুত্রে জানা যায়, উপজেলার পুরুষোত্তমপুর গ্রামের আদম আলীর ছেলে নবীগঞ্জ ওসমানী রোডের ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া ঘরে স্ত্রী, বিয়ে করেন মুড়ারপাটলী গ্রামের ইরফান আলীর যুবতী মেয়েকে। তাকে নিয়ে বসবাস করতো অভয়নগর এলাকায় নিজস্ব বাসায়। এক পর্যায়ে নানা অজুহাতে ও ব্যবসার কথা বলে হাতিয়ে নেয় স্ত্রীর ৪/৫ লাখ টাকা। বিগত ৬ জুলাই স্ত্রী ফজরুন বেগম তার টাকা দেয়ার জন্য তাগিদ দিলে উল্টো আরও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্বামী সবুজ মিয়া। টাকা দিতে অস্বীকার করলে গর্ভবতী স্ত্রীকে বেদরক মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তলপেটে স্ব-জোরে লাথিসহ শরীর বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এতে গুরুতর আহত হয় স্ত্রী ফজরুন। পরে পাশের রুমের ভাড়াটিয়া জনৈক মহিলা তাকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সংশ্লিষ্ট গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আঘাতজনিত কারনে গর্ভের বাচ্চা ঝুকিপূর্ণ বলে জানান এবং এক মাস বিশ্রামে থাকতে বলেন। কিন্তু স্বামী সবুজ মিয়ার দায়িত্বের অবহেলার কারণে যথাযথ চিকিৎসা করতে পারেনি স্ত্রী। ফলে ১৫ জুলাই প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সুচতুর স্বামী সবুজ মিয়া তাকে নিয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ৪ মাসের শিশু মারা গেছে মর্মে জানতে পেরে স্ত্রী ধোঁকা দিয়ে চিকিৎসার সকল কাগজপত্র কৌশলে নিয়ে পালিয়ে আসে। এদিকে অসহায় ফজরুন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে তার অনাগত বাচ্চা হত্যার বিচার চেয়ে স্থানীয় সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সুবিচার পান নি। এক পর্যায়ে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ওসি নবীগঞ্জ কে নির্দেশ দেন। মামলাটি এসআই কাউছার আহমদ তদন্ত করছেন। এ ব্যাপারে সবুজ মিয়া তার গর্ভবতী স্ত্রী কে মারপিটের কথা স্বীকার করে বলেন, গর্ভ নষ্ট হয়ে যাবে তা বুঝতে পারিনি। তবে তিনি যৌতুকের বিষয় টি অস্বীকার করেন। বাদীনি ফজরুন বেগম বলেন, আমি প্রায় ৫ লাখ টাকা পাই। বিয়ের পরে অভয়নগর বাসার ৪ শতক ভুমি আমার নামে রেজিস্ট্রার করে দেয়ার কথা ছিল। তাও দেই দিচ্ছি বলে সময় কর্তন করে। আমার পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। অপারকথা স্বীকার করলে আমাকে মারপিট করে আমার গর্ভের সন্তান কে হত্যা করে।