স্টাফ রিপোর্টার ॥ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ১৬ মাস বয়সী এক শিশুর রোগ নির্ণয় এবং সম্ভাব্য ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির বাবা মো. মাহদী হাসান মেহেদী। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩১ জুলাই সকাল থেকে তার ১৬ মাস বয়সী ছেলে হালকা জ্বরে আক্রান্ত হয়। জ্বর ওঠানামা করার পাশাপাশি শিশুটি দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে তাকে নাপা সিরাপ দেওয়া হয়। পরদিন জ্বর কিছুটা কমে গেলেও ৪ আগস্ট সকালে শিশুর ঘাড় ও শরীরে হালকা র্যাশ দেখা দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় এক মাস আগেও প্রচণ্ড গরমের সময় শিশুটির শরীরে একই ধরনের র্যাশ দেখা দিয়েছিল। তখন নিয়মিত চিকিৎসক ডা. রুজিনা রহমান শিশুটিকে পরীা করে গরমজনিত কারণে র্যাশ হয়েছে বলে জানান। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও লোশন ব্যবহারের পর শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে। গত ৪ আগস্ট বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জ্বর ও র্যাশ নিয়ে শিশুটিকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত একজন চিকিৎসক শিশুটিকে পর্যাপ্তভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই তার হাম হয়েছে বলে জানান এবং শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন। পরে শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ‘ডাঃ নুসরাত’ নামীয় চিকিৎসকের কাছে শিশুটিকে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুর পূর্বের অসুস্থতা, জ্বর ও র্যাশের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হলেও অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক যথাযথ শারীরিক পরীক্ষা না করেই শিশুটির হাম হয়েছে বলে ধারণা করেন। এরপর তিনি ইনজেকশন, বিভিন্ন ওষুধ ও ভিটামিন-এসহ একাধিক চিকিৎসা দেন এবং রক্ত পরীক্ষা ও এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। শিশুর বাবা অভিযোগে বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করা যাবে কি না জানতে চাইলে চিকিৎসক জানান, পরীক্ষা পরে করলেও হবে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইনজেকশন ও অন্যান্য ওষুধ শুরু করতে হবে। এতে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে শিশুটিকে সদর হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউর রহমানের কাছে চিকিৎসা করান।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ডা. জিয়াউর রহমান শিশুটিকে বিস্তারিতভাবে শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ ও মুখের ভেতরসহ বেশ কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করেন। সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের দেওয়া চিকিৎসার বিষয়টি জানানো হলে তিনি শিশুটির হাম হয়েছে বলে মনে করছেন না বলে জানান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার পর শিশুটির জ্বর ও র্যাশ ধীরে ধীরে কমে যায় এবং বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিশুটির বাবা। তিনি অভিযোগের সঙ্গে জরুরি বিভাগের টিকিট, ভর্তি ফরম ও চিকিৎসাপত্র এবং ডা. জিয়াউর রহমানের ব্যবস্থাপত্রের কপি সংযুক্ত করেছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে দেওয়া আবেদনে তিনি ঘটনার বিষয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে শিশু রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।