সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ১১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন বানিয়াচংয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে অনিয়মে ক্ষোভ হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকট অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া আদায় লাখাইয়ে বিষ পানে সাবেক মহিলা মেম্বারের মৃত্যু চুনারুঘাট সরকারি কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ লাখাইয়ে জমি নিয়ে বিরোধ দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫ নবীগঞ্জে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন অনুষ্ঠিত পৌরসভার ভ্যানগাড়ী চালক ও বর্জ্য সংগ্রহকারীগণকে পোষাক ও বাঁশি প্রদান সাতছড়ির ছড়ায় পানি নেই তৃষ্ণায় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে

সাতছড়ির ছড়ায় পানি নেই তৃষ্ণায় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে

  • আপডেট টাইম সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বা পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বর্ষা মৌসুমেও বন্যপ্রাণীর পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নাম সাতছড়ি হলেও বনের ভেতরের সাতটি পাহাড়ি ছড়ায় পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকে না। ছড়াগুলো অত্যন্ত ঢালু হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যায়। ফলে বৃষ্টির মৌসুমে প্রবল বৃষ্টি হলেও পানি ধরে রাখার কোনো প্রাকৃতিক ব্যবস্থা না থাকায় কিছু সময় পরই ছড়াগুলো শুকিয়ে যায়। এতে বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই বনজুড়ে পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। বন্যপ্রাণীর পানির চাহিদা মেটাতে বন বিভাগের উদ্যোগে বনের ভেতরে কয়েকটি কৃত্রিম জলাধার ও পুকুর তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি পুকুরের দুটি সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কোথাও পাড় ভেঙে গেছে, আবার কোথাও পলি জমে কমে গেছে পানির ধারণমতা। ফলে বন্যপ্রাণীর জন্য পানির উৎস আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাতছড়ির বন্যপ্রাণীর জন্য পানির সংকট নতুন নয়। শুষ্ক মৌসুমে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। তবে এবার বর্ষা মৌসুমেও ছড়াগুলোতে পানি ধরে না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বনজুড়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় বানর, হনুমানসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী পানির সন্ধানে বন থেকে বেরিয়ে আশপাশের চা-বাগান ও লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। বন এলাকার বাসিন্দা নিজামুল হক জানান, সম্প্রতি বনের আশপাশে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে বানর ও হনুমানকে চা-বাগান এবং লোকালয়ের কাছাকাছি দেখা যাচ্ছে। পানির পাশাপাশি খাবারের সন্ধানেও তারা বন থেকে বেরিয়ে আসছে। এতে প্রাণীদের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, তেমনি মানুষও আতঙ্কে থাকছেন।
স্থানীয় ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ররঞ্জন দেববর্মা বলেন, বন্যপ্রাণীর পানির জন্য তৈরি তিনটি পুকুরের দুটিই পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতছড়ির ছড়াগুলো দেখতে পানিতে ভরা মনে হলেও অতিরিক্ত ঢালু হওয়ায় পানি দ্রুত চলে যায়। ফলে বৃষ্টির মধ্যেও বনের বিভিন্ন অংশে পানির সংকট থাকে। দ্রুত পুকুরগুলো সংস্কার ও আরও জলাধার তৈরি না করলে শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এ বনে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৪৯ প্রজাতির পাখি এবং শতাধিক প্রজাতির সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর দেখা মেলে। উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, মেছোবিড়াল, মায়াহরিণ ও লজ্জাবতী বানরের মতো বিরল প্রাণীরও আবাসস্থল এ বন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর মাঠ সমন্বয়ক ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে খাবার ও পানির স্বাভাবিক উৎস নষ্ট হলে প্রাণীরা বিকল্প উৎসের সন্ধানে বন থেকে বেরিয়ে পড়ে। এতে মানুষের সঙ্গে সংঘাতের পাশাপাশি প্রাণীদের প্রজনন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়। সাতছড়ির ক্ষেত্রে শুধু পুকুর সংস্কার নয়, ছড়ার পানি ধরে রাখার উপযোগী ছোট ছোট জলাধার ও সংরণ ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পানির সংকটে অনেক বন্যপ্রাণী মারা গেলেও এসব মৃত্যর খবর অনেক সময় আমাদের নজরে আসে না। বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে বনের ভেতরে স্থায়ী ও নিরাপদ পানির উৎস তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে অতীতে বন্যপ্রাণীর খাবারের জন্য যে ফলের বাগান করা হয়েছে, সেগুলোরও যথাযথ পরিচর্যা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা দরকার।
সাতছড়ি বন্যপ্রাণী প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুকুরের পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বন্যপ্রাণীর পানির সংকট এড়াতে দ্রুত পুকুর পুনঃখনন, পাড় পুনর্র্নিমাণ এবং বিকল্প পানির উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। বনের প্রাণী, প্রকৃতি ও পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করাই তাদের লক্ষ্য।
প্রকৃতিবিদ ও স্থানীয়দের মতে, সাতছড়ির নামের সঙ্গে সাতটি ছড়া জড়িয়ে থাকলেও শুধু ছড়া থাকলেই বন্যপ্রাণীর পানির চাহিদা পূরণ হয় না। অতিরিক্ত ঢালু ছড়াগুলোতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাতেও পানির সংকট থেকে যাবে। তাই ছড়ার পানি সংরণ, ক্ষতিগ্রস্থ পুকুর সংস্কার এবং নতুন জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে বনের প্রাণীদের জন্য সারা বছর নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা জরুরি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com