স্টাফ রিপোর্টার ॥ তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ফিলিং স্টেশন ছাড়িয়ে মহাসড়ক ও প্রধান সড়ক পর্যন্ত যানবাহনের সারি পৌঁছে যাচ্ছে। এতে চালক ও যাত্রীদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ পথচারীরাও। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার আল-আমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। নোয়াপাড়া এলাকায় একপর্যায়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের সারি সৃষ্টি হয়। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে সুশান ও সেমকো সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর থেকেই বিভিন্ন ধরনের যানবাহন গ্যাস নেওয়ার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে আসতে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ফিলিং স্টেশনে জায়গা না থাকায় মহাসড়ক ও আশপাশের সড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপো করেও গ্যাস না পাওয়ায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়। গ্যাস নিতে আসা কয়েকজন চালকের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা সিরিয়াল অনুযায়ী গ্যাস দিলে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো না। তাদের দাবি, ‘ভিআইপি’ নামে ৫০ টাকা অতিরিক্ত নিয়ে সিরিয়াল ভেঙে কিছু যানবাহনে আগে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ যানবাহনের সিরিয়াল দীর্ঘ হচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়মের কারণে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হচ্ছে। আল-আমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. বাবুল চৌধুরী বলেন, তারা জালালাবাদ গ্যাসের লাইনের আওতায় থাকায় কিছুটা গ্যাস পাচ্ছেন। তবে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেসব এলাকার যানবাহনও গ্যাস নিতে তাদের স্টেশনে আসছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে জেলার বিভিন্ন রুটে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীরা টমটম, মিশুকসহ বিভিন্ন বিকল্প যানবাহনে চলাচল করছেন। তবে এসব যানবাহনেও যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।