নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জ উপজেলায় ২০ লাখ টাকার প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামাল উদ্দিনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জামাল উদ্দিন নবীগঞ্জ উপজেলার রিফাতপুর গ্রামের ইস্কন্দর আলীর ছেলে। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে শাহ পরাণ এগ্রো ফিসারিজ নামে ডেইরি ফার্ম ও মৎস্য খামারভিত্তিক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন জামাল উদ্দিন। প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার হিসেবে জয়নাল আবেদীন বিভিন্ন সময়ে জামাল উদ্দিনের কাছে মোট ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। তবে প্রতিশ্রুত ডেইরি ফার্ম ও মৎস্য খামার পরিচালনার পরিবর্তে জামাল উদ্দিন ওই অর্থ ব্যবহার করে ইরানে লোক পাঠানোর ব্যবসা শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিনিয়োগের টাকা ফেরত পেতে জয়নাল আবেদীন একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান হয়নি। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে জামাল উদ্দিন ২০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন এবং এক মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করায় জয়নাল আবেদীন চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
এ ঘটনায় ২০১২ সালে জয়নাল আবেদীন আদালতে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচার শেষে ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর আদালত জামাল উদ্দিনকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। রায়ের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২০২৪ সালে আদালতে ১০ লাখ টাকা জমা দিয়ে আপিল দায়ের করেন জামাল উদ্দিন এবং জামিন লাভ করেন। তবে ২০২৫ সালের ২৩ মে আদালত আপিল নামঞ্জুর করে জমাকৃত ১০ লাখ টাকা বাদী জয়নাল আবেদীনকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা এক মাসের মধ্যে পরিশোধের আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাকি অর্থ পরিশোধ না করে মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন জামাল উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের।