সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থের অভাবে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছে না দুলনের মরদেহ হবিগঞ্জে এনসিপির দায়েরকৃত মামলায় ছাত্রদলের নেতাদের জামিন লাভ হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৯ জনকে আসামী করে ছাত্রদল নেতার মামলা রুজু বাহুবলে শ্যামলী বাসের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ১ হবিগঞ্জ আদালতে কোর্ট ফি সংকট ॥ ভোগান্তি সুরমা চা বাগানে ৫০ বছরের পুরোনো সেতুতে ভোগান্তি শহরে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান ॥ আটক ১ শায়েস্তাগঞ্জে গরুবাহী পিকআপে ডাকাতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১ বাহুবলে দ্বৈত হত্যা মামলার আরও ১ আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার চুনারুঘাটে র‌্যাবের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

কাল পবিত্র ঈদুল আযহা ॥ হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে দুই জামায়াত

  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ২৪ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। এ দিন সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জে ও ঈদ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, যথাযোগ্য মর্যাদা, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমায় মুসলমানগণ আনন্দ উৎসব পালন করবে। ঈদের দিন হবিগঞ্জসহ দেশের সকল মুসলমান বিনম্র হৃদয়ে ঈদ-উল-আযহার নামায আদায় করবেন এবং নামায শেষে মহান রবের উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি দিবেন। হবিগঞ্জ জেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আযহার ১ম জামায়াত সকাল ৭:৩০ ঘটিকায় ও ২য় জামায়াত সকাল ৮:৩০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হবে।
১ম জামায়াতে ইমামতি করবেন কোর্ট মসজিদের খতিব মোস্তাফিজুর রহমান ও ২য় জামায়াতে ইমামতি করবেন গাউছিয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি আশরাফুল ওয়াদুদ। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামায়াত হবিগঞ্জ কোর্ট জামে মসজিদে সকাল ৮:০০ টায় অনুষ্ঠিত হবে। সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থেকে পবিত্র ঈদের জামায়াতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে জেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি।
প্রসঙ্গত, আল্লাহর জন্য নিজের জান-মাল ও প্রিয়তম জিনিস সন্তুষ্টচিত্তে বিলিয়ে দেয়ার এক সুমহান শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর ঈদ-উল-আযহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী কুরবানি করা ওয়াজিব। আল কুরআনের সূরা কাউসারে বলা হয়েছে, “অতএব তোমার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড় এবং কুরবানি কর।’’ সূরা হজ্জে বলা হয়েছে, “কুরবানি করার পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’’ কুরবানির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। সৃষ্টির প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)-এর দু’পুত্র হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম কুরবানি করেন। এ প্রসঙ্গে সূরা মায়েদায় ২৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, “আপনি তাদের আদমের দু’পুত্রের বাস্তব অবস্থা পড়ে শোনান। যখন তারা উভয়েই কিছু কুরবানি করেছিল তখন তাদের একজনের কুরবানি কবুল হয়েছিল এবং অপরজনেরটি হয়নি।’’
কুরবানি মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর সুন্নাহ। আল্লাহ তাঁর কুদরতী পরিকল্পনায় ইব্রাহীম (আ.) কে তাঁর শেষ বয়সে প্রিয়তম পুত্র ইসমাইল (আ.) কে কুরবানি করার নির্দেশ দেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ৮৫ বছর বয়সে হযরত ইসমাইল (আ.) কে পান। এ অবস্থায় ছেলেকে কুরবানি দেয়া এক কঠিন পরীা। কিন্তু তিনি তাঁর মহান রবের হুকুমে নত হলেন। নিষ্পাপ পুত্র ইসমাইল (আ.) ও নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। একপর্যায়ে পিতা তাঁর পুত্রকে জবাই করতে যখন উদ্যত ঠিক তখনই মহান আল্লাহর কাছে ঈমানের কঠিন পরীায় তিনি উত্তীর্ণ হলেন। চোখ বাঁধা অবস্থায় তিনি জবাই করেন। চোখ খুলে দেখেন তাঁর প্রিয় পুত্র অত রয়েছে আর কুরবানি হয়েছে একটি চতুষ্পদী দুম্বা।
আল কুরআনে এই মহিমান্বিত ত্যাগের ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহীম (আ.) তাকে বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কি? সে বললো, হে পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন। আল্লাহ চাইলে আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইব্রাহীম (আ.) তাকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সৎ কর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে জবাই করার জন্য দিলাম এক মহান জন্ম।” হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর অনুপম ত্যাগের অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্ব মুসলমানরা কুরবানি করে আসছে। তাঁরই নিদর্শন স্বরূপ প্রতি বছর হজ্জ পালনকারীরা কুরবানি দিয়ে থাকেন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, কুরবানির পূর্বশর্ত আল্লাহ ভীতি ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাক্সা। হাদীস শরীফে আছে, ‘মানুষের আমলের প্রতিফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। সূরা হজ্জে বলা হয়েছে, “এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’’ প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব।
রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কুরবানি দিলো না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।” (মুসনাদে আহমদ) জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন একদিন কুরবানি করা যায়। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এ শ্রেণীর প্রাণী দ্বারা কুরবানি করা যায়। কুরবানিকৃত পশুর গোশতের একভাগ গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায়। এদিকে ৯ জিলহজ¦ ফযর নামাযের পর থেকে ১৩ জিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবীরে তালবিয়া পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হলো, ‘‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’’ ইতোমধ্যে ঈদ-উল-আযহার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ঈদের দিন সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে উন্নতমানের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com