চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশী নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ। বৈঠকে মহকুমা পুলিশ আদিকারিক ডি কুদিয়ারাসুসহ বিএসএফ ৭০ ব্যাটালিয়ানের বিভিন্ন পর্যায়ের কমান্ডারেরা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার(৫ নভেম্বর) খোয়াই জেলা পুলিশ সুপার রানাদিত্য দাস বাচাইবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত যৌথ বৈঠকে এ সীদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবারেই আশারামবাড়ি, করাঙ্গিছড়ার বিদ্যাবিল ও বাচাইবাড়ি সীমান্তের চৌমুহনীতে ৩ টি চৌকি স্থাপন করে এতে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খোয়াই সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে চৌকি নির্মাণ করা হবে বলে সূত্র জানান। গেল ১৫ অক্টোবর চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ৩ বাংলাদেশীকে পিঠিয়ে হত্যা করে বিদ্যাবিল সীমান্তের পাহাড়ে বসবাসরত উপজাতিরা। গত মঙ্গলবার বিকালে আশারামবাড়ি সীমান্ত দিয়ে খোয়াই শহরে প্রবেশের সময় সঞ্জয় সরকার (৩০) ও বিকাশ দাস(২৮) নামের দুই বাংলাদেশীকে জনতা আটক করে বেধরক পেঠায়। তারা টিআর ০৮০৬৯০ নাম্বারের একটি লাইটেসযোগে খোয়াই শহরে যাচ্ছিলো। এ সময় বাচাইবাড়ি এলাকার লোকজন তাদের বহনকারী গাড়ি আটক করে গণপিঠুনী শুরু করে। খবর পেয়ে চম্পারহাওর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। এরপর খোয়াই থানা পুলিশের আধিকারিক ডি কুদিয়ারাসুর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে খোয়াই হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদের বাড়ি কুমিল্লা বলে জানা গেছে। এর আগের দিন সোমবার খোয়াই’র রাধানগর স্ট্যান্ড থেকে রাতুল দাস, সংকর দাশ ও হৃদয় চক্রবর্তী নামের ৩ বাংলাদেশী নাগরিক আটক হয়। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ। খোয়াই পুলিশ সুপার রানাদিত্য দাস জানান, অনুপ্রবেশ যে কোন উপায়ে রোধ করা হবে তবে মাঝপথে যাতে জনতার রোষানলে না পড়ে সে জন্যই ত্রিপুরা সীমান্তে চৌকি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।