এটিএম সালাম/মোঃ আলমগীর মিয়া/ছনি আহমেদ চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৯টি সিএনজি অটোরিকশা, ১টি বাস ও ২টি মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে গেছে পুরো সিএনজি স্টেশনটি। অগ্নিকান্ডে ৬ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেয়ার জন্য “হোসাইন ইমন-লিমন” নামের একটি লোকাল একটি বাস। এ সময় ফিলিং ষ্টেশনের কর্মচারী রাসেল মিয়া বাসে গ্যাস দিচ্ছিল। ৩৭ পয়েন্ট গ্যাস যাবার পর হঠাৎ গ্যাসের নলেজ (গ্যাসের পাইপ) ছিড়ে যায়। এতে বিকট শব্দে এটি বিস্ফোরণ ঘটে। সাথে সাথে বাসে আগুন ধরে যায়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ফিলিং স্টেশনে আসা গাড়ির যাত্রী, চালক আত্মরক্ষার্থে দিকবিদিক ছুটুছুটি শুরু করে। অনেকে জীবন বাজি রেখে গাড়ি স্টেশনের বাহিরে নিতে সক্ষম হয়। এরই মাঝে পুরো সিএনজি স্টেশনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্টেশনের ৩য় তলায় ঘুমিয়ে ছিল কয়েকজন কর্মচারী। মানুষের শুরচিৎকারে ঘুমভাঙ্গলে দেখতে পায় চারদিকে আগুন। এ সময় ৩তলা থেকে ঘরের পিছনের জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে পাশের জমিতে পড়ে নিজেকে রক্ষা করে। মানুষের আর্তচিৎকারে আশপাশ এলাকার লোকজন ছুটে আসে। কিন্তু আগুনের ভয়াহতায় কেউ কাছে যাবার সাহস করেনি। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ছুটে আসে। প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষনে ঘটনার সুত্র বাসটি, ৯টি সিএনজি অটোরিক্স, ২টি মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া সিএনজি স্টেশনের যাবতীয় মেশিন, শেড, ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
অগ্নিকান্ডে গ্যাস পাম্পের কর্মী রাসেল (২৫), ম্যানাজার জয়নাল আবেদিন (৪০), কর্মচারী নাইম আহমেদ (২৮) গুরুতর আহত হন। আর ৪জন সিএনজি চালক আহত হয়েছেন।
গ্যাস পাম্পের ম্যানাজার শোয়েব আহমদ জানান, আমরা ২য় তলায় কয়েকজন ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ আগুন, আগুণ শব্দ শুনে উঠে দেখি চারিদিকে আগুন। আমরা পিছনের জানালা দিয়ে ধানি জমির কাদার মধ্যে লাফিয়ে পড়ে প্রানে রক্ষা পাই। বাসের মধ্যে গ্যাস দিতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়েছে। আমাদের ৬জন আহত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক ধারনা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এম এ বাতেন জানান, “সিএনজি রিফুয়েলিং চলাকালীন হঠাৎ বাসে বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।”
হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিফুয়েলিং চলাকালীন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজি মালিক ও চালকরা। স্থানীয়রা বলছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।