বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

বাহুবলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা ॥ ১১ মাস পর পাষণ্ড পিতার স্বীকারোক্তি

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮
  • ৭২৪ বা পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি ॥ বাহুবলে সাড়ে ১১ মাস পর দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ূয়া নাঈমা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পাষন্ড পিতা ফরিদ মিয়া নিজেই কন্যা নাঈমাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাহুবল সার্কেল অফিসে সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
প্রকাশ, বিগত বছরের ৯ আগস্ট উপজেলার সোয়াইয়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার কন্যা স্থানীয় সোয়াইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্রী নাঈমা’র লাশ বাড়ির পাশের খালের পাড়ে কচুরিপানার নিচ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার প্রায় একমাস পর ৬ সেপ্টেম্বর নিহতের পিতা ফরিদ মিয়া বাদী হয়ে আদালতে তারই ভাই-ভাতিজাকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে বাহুবল থানা পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তকালে পুলিশ মামলার বাদীকেই সন্দেহ করতে থাকে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বাদী ফরিদ মিয়া গা-ঢাকা দেয়। অবশেষে গত ১৩ জুলাই মামলার বাদী ফরিদ মিয়াকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ফরিদ মিয়া নিজেই হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। পরদিন পুলিশ তাকে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মোছাঃ শাহিনুর আক্তার-এর আদালতে হাজির করলে ফরিদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি প্রদান করে।
পাষন্ড ফরিদ মিয়া পুলিশ ও আদালতকে জানায়, তার ভাই ও ভাতিজাদের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে তারা তাকে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে। গত বছর ৮ আগস্ট সোয়াইয়া বাজারে ফরিদ মিয়াকে তার ভাই-ভাতিজারা মারধোর করে। এ সময় তারা তাকে হুমকি দেয়। ভয়ে ওই রাতে ফরিদ মিয়া আর বাড়ি না ফিরে সোয়াইয়া বাজারেই রাত্রীযাপন করে। শুকুর মিয়া ও তার পুত্রদের সাথে পূর্ব বিরোধ থাকা একই গ্রামের সমরাজ মিয়ার পুত্র সাজন মিয়া এগিয়ে এসে ফরিদ মিয়াকে কু-প্ররোচনা দেয়। উভয়ে মিলে প্রতিপক্ষ শুকুর মিয়া ও তার পুত্রদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে।
এর অংশ হিসেবে ৯ আগস্ট ফরিদ মিয়া তার কন্যা মাতৃহারা নাঈমা আক্তার শামীমার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার পর বেলা ২টার দিকে সোয়াইয়া বাজারে তার পিতা ফরিদ মিয়ার সাথে দেখা করে নাঈমা। এ সময় ফরিদ মিয়া তাকে চকলেট কিনে খাওয়ায়। পরে বাড়ি ফিরে নাঈমা আক্তার দুপুরের খাবার খায়। এ সময় তাদের ঘরে আসে সাজন মিয়া। এর পরপরই ফরিদ মিয়া বাড়ি আসে। এ সময় নাঈমার এক ভাই ও এক বোন স্কুল ছিল। বাড়িতে আর কেহ ছিলনা। এক পর্যায়ে ফরিদ মিয়া মেয়ে নাঈমাকে বাড়ির পাশের একটি নিচু জায়গায় ডেকে নেয়। সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষমান সাজন মিয়া একটি ছেড়া মশারির টুকরো নাঈমার গলায় পেছিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ফরিদ মিয়া সাথে সাথে নাঈমার দু’পা চেপে ধরে। এক পর্যায়ে নাঈমা মারা গেলে তারা লাশ পার্শ্ববর্তী খালের পাড়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। বিকেল ৫টার দিকে গ্রামের লোকজন নাঈমার লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
এক প্রশ্নের জবাবে সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী জানান, হত্যাকান্ডের পরপরই ফরিদ মিয়ার সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করে সাজন মিয়া বিদেশ ফাঁড়ি জমানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠে। এ অবস্থায় ফরিদ মিয়া আদালতে মামলায় সাজন মিয়াকেও হত্যা মামলার আসামী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে। তিনি জানান, নাঈমা হত্যার অন্যতম হোতা সাজন মিয়া বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছে।
প্রেসব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন সার্কেল অফিসের ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ দেব, বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুক আলী ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সেলিম হোসেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com