বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত ॥ বন্যা কবলিত ৩৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে

  • আপডেট টাইম বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮
  • ৬৬৮ বা পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জ সংবাদদাতা ॥ নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দীঘলবাক ও ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘরসহ রাস্তা ঘাট। বিপাকে পড়েছেন মানুষ গবাদি পশু ও হাঁস মোরগ নিয়ে। তাছাড়া শতশত পুকুর ও মৎস্য খামার বন্যার পানিতে মিশে গিয়ে বেরিয়ে গেছে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ। এ অবস্থায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। রাস্তা-ঘাট ও বিদ্যালয় তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষা কার্যক্রম। তাছাড়া দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেকেই বাড়িঘর ফেলে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় আশ্রয় কেন্দ্রে। সোমবার বন্যার্ত শতাধিক পরিবারে শুকনো খাবার, ওরাল স্যালাইন ও জরুরী ওষুধপত্র বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর ।
গত শনিবার দীঘলবাক ইউনিয়নের উমরপুর ও ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের কাছে বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেখা হয়। এতে ভেতরে পানি ঢুকে এলাকা প্লাবিত হয়। গত ৪ দিন ধরে অব্যাহত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘীরপাড়, ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ী, লালাপুর, মোস্তফাপুর, তপথিবাগ, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, বাউরকাপন, লতিবপুর, নোয়াগাঁও, প্রজাতপুর, দক্ষিণগ্রাম, কইখাই, উমরপুরসহ প্রায় ১৫টি গ্রাম। এছাড়াও উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দীঘলবাক, জামারগাঁও, রাধাপুর, বড়পেছি বাজার, ফাদল্লা, কুমারকাদা, কসবা, চরগাঁও, মথুরাপুর, মাধবপুর, গালিমপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে।
গত সোমবার সরজমিনে অনেক বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। কিছু কিছু পরিবার ঘরের ভেতর বাঁশ দিয়ে মাছা তৈরী করে পানির মধ্যেই বসবাস করছেন। ইতিমধ্যে দীঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয় ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবার । মোস্তফাপুর গ্রামের মালা বেগম জানান, আমার ঘরে হাটুর উপরে পানি। রান্না-বান্না করতে পারছিনা। ছেলে মেয়ে নিয়ে পানিতেই খাটের উপর বাস করছি।
আশ্রয় কেন্দ্রে মকলিছ উল্লাহ নামে এক বৃদ্ধ বলেন, চারিদিকে পানি আর পানি। আমাদের ঘর বাড়ি পানিয়ে লইয়া গেছে তাই এখানে এসে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকরাম। এদিকে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ, নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন হাসান, জেলা পরিষদের সদস্য এড. সুলতান মাহমুদ বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন হাসান বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় আমাদের নজরদারি রয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত লোকজনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও মোমবাতি বিতরণ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগীতা করা হবে। তিনি আরো বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা হয়েছে। আমরা আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে পানি কমে আসবে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার থেকে ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com