বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

আটঘরিয়া গ্রামের নিহত বিজিবি জওয়ান সুমনের বাড়িতে শোকের মাতম ॥ আজ ৮টায় জানাযা

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ৩০ জুন, ২০১৭
  • ৯৭০ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লালমনিরহাটের দহগ্রাম সীমান্তে তিস্তা নদীতে নিখোঁজ বিজিবির ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার নিখোঁজের খবরে শোকে মূহ্যমান পরিবারের সদস্যদের ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বিজিবি কর্তৃপক্ষ সুমন মিয়ার লাশ নিয়ে তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় আটঘরিয়া গ্রামের বাড়িতে সুমন মিয়ার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলেও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া রংপুর ৬১-বিজিবি ব্যাটালিয়নে কর্মরত থাকলেও তিনি লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে দহগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পে সংযুক্ত ছিলেন। গত সোমবার ঈদের দিন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দহগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টহল দল দহগ্রাম সীমান্তের ৬ নম্বর মেইন পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলার এলাকায় তিস্তা নদীতে আবুলের চর যান। এ সময় ল্যান্স নায়েক টুটুল মিয়া, ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া ও সিপাহী উচ্চ প্র“ মারমা ওই টহল টিমে ছিলেন। আবুলের চর এলাকায় তিস্তা নদীর কিনারে গরু চোরাকারবারীদের সঙ্গে গরু টানাটানির এক পর্যায়ে টুটুল মিয়াকে নদীতে নামানো হয়। চোরাকারবারীরা গরুর রশি ছেড়ে দিলে দুটি গরুসহ কোন রকমে চরে ফিরে আসেন টুটুল মিয়া। এদিকে টুটুল মিয়া তলিয়ে যাচ্ছে ভেবে তাকে উদ্ধারের জন্য রাইফেল ও গোলাবারুদ উচ্চ প্র“ মারমার হাতে জমা দিয়ে সুমন তিস্তা নদীতে নামেন। পরে তিনি সেখানেই নিখোঁজ হন।
খোঁজাখুজি করে বুধবার সকালে ভারতের অভ্যন্তরে তিস্তা নদীতে কোচবিহার-১৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের তরুনা ক্যাম্পের সদস্যরা সুমন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। দুপুর ৩টায় বিএসএফের কোচবিহার অ্যাডোক এনবি বিএসএফ ব্যাটালিয়নের তিনবিঘা বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার এসি বিনোদ রাজা লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পাটগ্রাম কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শেখ সুজাউল ইসলামের কাছে বিজিবি জওয়ানের মরদেহ দরুণা ক্যাম্পে হস্তান্তর করেন। পরে স্পিড বোটে করে সুমন মিয়ার মরদেহ তিস্তা ব্যারাজে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বিজিবি রংপুর রিজিওন্যাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাইফুল ইসলাম সাইফ, রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, রংপুর-৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মাহফুল আলম ও লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরে পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবনী শংকর করের উপস্থিতিতে দহগ্রাম পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আবু হানিফ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। দহগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক মো. আব্দুল ওয়াহেদ শেখ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা  করেন। পরে মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই রাতে হিমঘরে রাখা হয় সুমন মিয়ার মরদেহ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com