বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

পাহাড় কাটতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে ॥ নবীগঞ্জে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

  • আপডেট টাইম বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০১৬
  • ৭৪৭ বা পড়া হয়েছে

এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জে পাহাড় কাটতে গিয়ে ধসে পড়া মাটি চাপায় দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চল খ্যাত দিনারপুর এলাকার শংকরসেনা গ্রামে পাহাড় কাটতে গিয়ে শ্রমিকদেরকে এ নির্মম ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। নিহতরা হলো-গজনাইপুর ইউনিয়নের নিশাকুড়ি গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র শামসুল হক (৩৫) ও পার্শ্ববর্তী কায়স্থ গ্রামের শাওন উল্লার পুত্র মাসুক মিয়া (৪০)। আহত শ্রমিক হলেন-একই গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে জাহেদ মিয়া (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ী এলাকা হিসেবে খ্যাত দিনারপুর পরগনার বিভিন্ন টিলা কেটে অবৈধভাবে মাটি নিয়ে ব্যবসা করে আসছিল একটি চক্র। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রায় ৬ মাস ধরে পাহাড় কাটা বন্ধ ছিল বলে প্রশাসন দাবী করেছেন।
nabigonj-copyআহত শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার মাধবপুর উপজেলায় সিরামিক কোম্পানীসহ বিভিন্ন কোম্পানীতে মাটি দেয়ার জন্য চুক্তি করেন দিনারপুর কান্দিগাঁও গ্রামের শেখ মাসুদ নামের এক ঠিকাদার। তিনি একই এলাকার শামীম আহমদকে দায়িত্ব দেন। উক্ত শামীম আহমদ টিলার মাটি কাটার জন্য কায়স্থগ্রামের মহসিন মিয়া নামে এক যুবককে দায়িত্ব দেন। সেই মহসিন মিয়া গত সোমবার রাত ১০টা থেকে শংকরসেনা গ্রামের জয়নুর মিয়ার টিলা থেকে মাটি কাটার জন্য মাসুক মিয়া, শামসুল হক, জাহেদ মিয়া ও রুবেল মিয়াসহ ১২ জন শ্রমিককে কাজে লাগান। রাত ব্যাপী কাটা মাটিগুলো ট্রাক দিয়ে কান্দিগাঁও পেট্রোল পাম্পের সামনে জমা করে রাখা হয়। মাটি কাটার এক পর্যায়ে মঙ্গলবার ভোর রাত ৪টার দিকে হঠাৎ উপর থেকে মাটি ধসে পড়ে। এতে মাটির নিচে চাপা পড়ে ৩জন। এ সময় অন্যান্য শ্রমিকরা চলে যায়। সকাল ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজন মাটি চাপা অবস্থায় তাদের দেখতে পান। এ সময় জাহেদকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর ২ শ্রমিক শামসুল ও মাসুক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে হবিগঞ্জ থেকে দমকল বাহিনী ও গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে। পুলিশ মৃতদেহের সূরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। গোপলার বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। মাটির নিচে আরও লাশ আছে কিনা তার জন্য মাটি সরানোর কাজ চলছে।
নবীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বাতেন জানান, চুরি করে মাটি বিক্রি করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিচের দিকে বেশী গর্ত করে মাটি কাটায় উপড়ের মাটি ধসে পড়ে এই ঘটনা ঘটেছে। যারা এই মাটির ব্যবসার সাথে জড়িত তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ হলেও কিভাবে রাতের আধারে নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগনার পাহাড়ী এলাকায় পাহাড় কাটা হচ্ছে এ নিয়ে অভিযোগ এলাকাবাসীর। নবীগঞ্জ উপজেলার এসিল্যান্ড জীতেন্দ্র কুমার দেবনাথ জানান, পাহাড় কাটা অবৈধ। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারী করা হচ্ছে। কিন্তু রাতের আধারে পাহাড় কাটার বিষয়টি প্রশাসন অবগত ছিল না।
এলাকাবাসী জানান, নিহত শামসুল হক ৮ সন্তানের জনক। এরমধ্যে সবার বড় মেয়ে। তার বয়স ১২ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন শামসুল হক। অপর দিকে নিহত মাসুক মিয়া ৪ সন্তানের জনক। নিহতদের স্ত্রী ও অবুঝ সন্তানদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। অনেকে চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। নিহত পরিবারের অভিযোগ পাহাড় কাটার সাথে যারা জড়িত তারাই এ ঘটনার জন্য দায়ী। ওই সব ঠিকাদার, সাবঠিকাদার ও তাদের নিয়োজিত লোকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।
এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের সাথে আলাপ হলে তারা বলেন, যারা নিহত হয়েছে তারাই ছিলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্রম ব্যক্তি। নেহায়েত পেটের দায়েই রাত জেগে তাদেরকে কাজ করতে হয়েছে। এখন তাদের পরিবারকে দেখবে কে এবং দুইটির মৃত্যুর দায়ভারই-বা নেবে কে? অর্থলোভী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবী জানান তারা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com