সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

ইচ্ছার কাছে দারিদ্রতা পরাজিত মাধবপুরে ৩ মেধাবী মুখ

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫
  • ৫৯৮ বা পড়া হয়েছে

আবুল হোসেন সবুজ, মাধবপুর থেকে ॥ অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে দারিদ্রতা হার মানতে বাধ্য। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এমনই উদাহরণ সৃষ্টি করেছে মাধবপুরের ৩ মেধাবী মুখ। ৩ মেধাবীকে নিয়ে এ আয়োজেন-
তারেক আহম্মেদ :
অন্যের জমিতে দিন মজুরের কাজ করে মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর জেসি হাইস্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তারেক আহম্মেদ বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়েছে। দারিদ্রতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। লেখাপড়া ও সংসারের খরচ যোগাতে সে অন্যের কৃষি জমিতে শ্রমিকের কাজ করেছে। উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের  আলী আহম্মেদের ছেলে তারেক। বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী। ছেলে ভাল ফলাফল করেছে এ খবর শুনেও মুখে সামান্যতম হাসি নেই। দারিদ্র যেন তাদের গ্রাস করে ফেলেছে। ওরা ৩ ভাই ২ বোন। মা মুর্শিদা বেগম গৃহীনি। তিনি জানান, এত দিন তারেক লেখাপড়ার পাশাপাশি পরের জমিতে কাজ করে লেখাপড়া ও পরিবারের খরচ যোগিয়েছে। এখন তার অদম্য ইচ্ছা ভাল কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করে ডাক্তার হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চায় সে। কিন্তু অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে কিভাবে ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাবেন এ নিয়ে চিন্তিত তার মা।
কারিমা আক্তার :
মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর জেসি হাইস্কুল এন্ড কলেজ থেকে দর্জির কাজ করে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ -৫ পেয়েছে মোছাঃ কারিমা আক্তার। সে উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের হতদরিদ্র শামসুল ইসলামের মেয়ে। ৪ ভাই ২ বোন মা বাবা সহ ৮ জনের সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি বাবা শামসুল ইসলামের পক্ষে লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালানো কষ্টকর ছিল। এ কারণে কারিমার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম ছিল। মা নাছিমা আক্তার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবী। বাড়িতে থাকা সেলাই মেশিনে মায়ের কাছ থেকে কাজ শিখে লেখাপড়ার পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে নিজের পড়াশোনা খরচ মিটিয়েছেন কারিমা। অদম্য ইচ্ছা কঠোর অধ্যবসায় ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার মা নাছিমা আক্তার জানান, কারিমা ভাল ফলাফল করার পরও তারা আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারবে কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
সাথী রানী পাল :
ছোট বেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে সাথী রানী পালের। এ অদম্য ইচ্ছা থেকে একাগ্রচিত্তে লেখাপড়া করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জগদীশপুর জেসি হাইস্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সাথী রানী পাল। সে উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের সবজি বিক্রেতা হিরেন্দ্র পালের মেয়ে। সাথীর মা সূচিত্রা রানী পাল বলেন, ঘরটি তাদের একমাত্র সম্ভল। জমি জমা কিছুই নেই। সাথীর বাবা হিরেন্দ্র পাল কিডনী রোগী। সামান্য সবজির ব্যবসা করে পরিবার ও মেয়ের খরচ যোগিয়েছেন। এখন ভাল কলেজে ভর্তি করে মেয়ের পড়া শোনা চালিয়ে যেতে পারবে কি না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com