সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

চুনারুঘাটে কালিশিরি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের বিরোধ চরমে ॥ পড়ালেখায় বিঘœ

  • আপডেট টাইম রবিবার, ৩১ মে, ২০১৫
  • ৮০৯ বা পড়া হয়েছে

চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ চুনারুঘাটের কালিশিরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখা পড়ার পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের অব কাঠামোর উন্নয়ন হলেও প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মাঝে মতবিরোধ এবং গ্রাম্য নোংরা রাজনীতির কারণে বিনষ্ট হচ্ছে লেখাপড়া। স্কুলের অব্যবস্থাপনার কারনে ইতোমধ্যেই ৫ম শ্রেনীর সমাপনী পরীক্ষার ১২টি সনদ খোয়া গেছে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা কেউ প্রধান শিক্ষক আর কেউ সহকারী শিক্ষকের পক্ষ নেয়ায় পরিস্থিতি এখন বেসামাল হয়ে উঠেছে। এ সব কারণে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের হচ্ছে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। ছাত্র ছাত্রীরা লেখা পড়ার বদলে প্রায় প্রতিদিনই স্কুল প্রাঙ্গনে প্রত্যক্ষ করছে সভা মিটিং। এলাকাবাসী জানান, কালিশিরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টার পর ১৯৭৩ সালে সরকারীকরণ করা হয়। ২০১৩ সালে ওই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে জুনিয়র স্কুলে রূপান্তর করে ৬ জন শিক্ষকের স্থলে আরো ২ জন অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জুনিয়র স্কুলে রূপান্তরের ঘোষনা দেয়ার পর প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা মুজিবুর রহমানের সাথে শিক্ষক বদলী, ডেপুটেশন ও অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে মত বিরোধ বাধে সহকারী শিক্ষক তারা মিয়া খানের সাথে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, গত ২৪ এপ্রিল শিক্ষক তারা মিয়া খান স্কুলে দেরী করে আসার ঘটনা নিয়ে প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমানের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে তারা মিয়া খানের বিরুদ্ধে একের পর এক শোকজ নোটিশ জারী অব্যাহত রাখেন প্রধান শিক্ষক। এ শোকজ নোটিশের জবাব তারা মিয়া খান বৃষ্টির কারনে স্কুলে আসতে বিলম্ব হয়েছে-মর্মে জবাব দেন, কিন্তু কোন জবাবই স্কুল প্রধানের কাছে গ্রহন যোগ্যতা পায়নি। এতে ওই দুই শিক্ষক ও তাদের পক্ষের লোকজনের মাঝে বিরোধ চাঙ্গা হয়ে উঠে। এলাকায় এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে একাধিক প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়েছে। শিক্ষক তারা মিয়া খান বলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ার পরও স্থানীয় চেয়ারম্যান সনজু চৌধুরী ১৪ মে স্কুল পরিদর্শন বহিতে তাকে বঙ্গবন্ধু’র কটুক্তিকারী বলে উল্লেখ করেন। চেয়ারম্যানের লোকজনের কারনে তিনি স্কুলে যেতে পারছেন না এমনি তার ছুটির দরখাস্ত ও গ্রহন করছেনা স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিকে স্কুলে জমিদাতা রিয়াছত উল্লার পুত্র আব্দুল মন্নাফ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীর নিকট থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। প্রধান শিক্ষক স্কুলে বিরোধের বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করলেও গত ২৮ মে সহকারী শিক্ষক তারা মিয়া খান তাকে লাঞ্ছিত করেন বলে জানান। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কালিশিরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিবদমান বিরোধের বিষয়ে তদন্ত করছেন তবে তদন্ত কি পর্যায়ে আছে তা ওই দুই কর্মকর্তা জানাতে অনিহা প্রকাশ করেন। এলাকবাসী কালিশিরি স্কুলের ঐতিহ্য ও লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তারা এসব হীন রাজনীতির অবসান চান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com