মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গত শুক্রবার রাতে মাধবপুর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটি রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। মাধবপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক। রাজনৈতিকভাবে তাকে কোণঠাসা করা এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ মামলার আশ্রয় নিয়েছে বলে আমরা মনে করি। একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ আনা হলে বিষয়টি অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো নিরপরাধ মানুষ যাতে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলার কারণে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এদিকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির খান চৌধুরী বলেন, অসহায় একটি পরিবারের জায়গা দখল ঠেকাতে এবং জাল দলিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শামসুল ইসলাম কামাল চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়েছেন বলে তারা মনে করছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
শামসুল ইসলাম কামাল মামলাটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।