মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ গতকাল ৯ আগস্ট ছিল বিশ্ব আদিবাসী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলেও মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৩ টি চা বাগানগুলোতে বসবাসরত অনেক আদিবাসী পরিবারের জীবনে এর তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। মুন্ডা, সাঁওতাল, দেববর্মা, উড়াঁও, রেলি, কল ও ভূমিজসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চা বাগানে শ্রম দিয়ে জীবনযাপন করলেও দারিদ্র্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট এখনো তাদের নিত্যসঙ্গী।
মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, সুরমা, জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া ও চুনারুঘাটের, আমু, নালুয়া, চন্ডিছড়া, বেগমখান, লালচান, পারকুল চা বাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ আদিবাসী পরিবার জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং মানসম্মত চিকিৎসা সেবার অভাব তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক মালতি মুন্ডা জানান, প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। অভাবের কারণে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব আদিবাসী দিবস সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই বলেও তিনি জানান।
নালুয়া চা বাগানের জগেন সাঁওতাল নামে এক শ্রমিক বলেন, অসুস্থ হলে বাগানের হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া যায় না। উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হলে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে অনেকেই যথাযথ চিকিৎসা ছাড়াই কষ্ট ভোগ করেন।
আদিবাসী সমাজকর্মী সাধন সাঁওতাল বলেন, অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও আর্থিক সংকট ও সচেতনতার অভাবে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। পাশাপাশি পুষ্টিহীনতা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে, একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সামনে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব সংকট। সাতছড়ির আদিবাসী নেতা চিত্ত রঞ্জন দেববর্মা বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেকেই মাতৃভাষা ব্যবহার করছে না। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ঐতিহ্যবাহী ভাষা, গান, নৃত্য ও সংস্কৃতির নানা উপাদান।
কমিটির সভাপতি চিত্ত রঞ্জন দেববর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ লিয়াকত হাসান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজ, পৌর বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক তরফদার, বাপা হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন সামসু, ধরা হবিগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক তাহমিনা বেগম গিনি এবং পরিবেশ সংগঠক তোফাজ্জল।