মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে শ্রমিক প্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রেশন, তলব এবং অন্যান্য বকেয়া পরিশোধের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। ফলে বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গতকাল রোববার দুপুরে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ইউএনও মেহেদী হাসান শ্রমিক প্রতিনিধিদের জানান, বাগান কর্তৃপক্ষ সোমবার থেকে শ্রমিকদের রেশন ভাতা প্রদান করতে সম্মত হয়েছে। তিনি শ্রমিকদের বৃহত্তর স্বার্থে কাজে যোগদানের আহ্বান জানান এবং আলোচনার মাধ্যমে বাকি সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
এ সময় শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন দীর্ঘদিনের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া ইউএনওর কাছে তুলে ধরেন।
তারা জানান, শুধু রেশন তলব নয়, বাগানের শ্রমিকদের আরও কিছু বকেয়া পাওনা রয়েছে, যা দ্রুত পরিশোধ করা প্রয়োজন।
নোয়াপাড়া চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, “শ্রমিকরা গত দুই দিন কর্মবিরতি পালন করেছেন। এ সময়ের হাজিরা কোম্পানিকে শ্রমিকদের দিতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ শ্রমিকরা কাজে ফিরতে আগ্রহী হবেন। ইউএনও সাহেব বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন। আমরা আশাবাদী দ্রুত একটি সমাধান হবে।”
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা আন্দোলন করতে চান না, তবে তাদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত না হলে তারা বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন। প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হলে শ্রমিকরা কাজে ফিরে যাবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আজকের বৈঠক ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে কর্মবিরতির দুই দিনের হাজিরা কোম্পানি দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং সোমবার থেকে নোয়াপাড়া চা বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগে শ্রমিকদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এখন কর্মবিরতির সময়ের হাজিরা ও বকেয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান হলেই দীর্ঘ কয়েকদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।