রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে চা বাগানে যক্ষার প্রকোপ ওষুধ সংকটে চরম ভোগান্তি বানিয়াচঙ্গের কাগাপাশায় নজির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী কলেজ উদ্বোধনকালে হুইপ জি কে গউছ ॥ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে এমপি ফয়সলকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার ॥ দুই আইডির বিরুদ্ধে জিডি মাধবপুরে প্রতিবাদের ঝড় মাধবপুরে ডিবির অভিযান ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শহরে যুবলীগ নেতা সুজন গ্রেপ্তার চুনারুঘাটে বিজিবির অভিযান ৮ গরুসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার চুনারুঘাট উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত চুনারুঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযান ১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণকালে হুইপ জি কে গউছ ॥ শেখ হাসিনার অপকর্মের বিচার মানুষ দেখতে চায় সিলেট ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯

মাধবপুরে চা বাগানে যক্ষার প্রকোপ ওষুধ সংকটে চরম ভোগান্তি

  • আপডেট টাইম রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বা পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ মাধবপুর উপজেলার চা বাগানগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে যক্ষা রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের (উঙঞঝ) কর্নারে যক্ষার অত্যাবশ্যকীয় প্রতিষেধক “টু এফডিসি” (রিফামপিসিন ও আইসোনিয়াজিড) ট্যাবলেটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ব্যাঘাত ঘটছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। ফলে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন চা শ্রমিকসহ শত শত দরিদ্র রোগী।
উপজেলার নোয়াপাড়া, জগদীশপুর, বৈকুন্ঠপুর, সুরমা ও তেলিয়াপাড়া-এই পাঁচটি চা বাগানে যক্ষার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ২৫ জন, জুন মাসে ২৪ জন এবং জুলাই মাসে ২৬ জন নতুন যক্ষা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি আগস্ট মাসেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তেলিয়াপাড়া “হীড বাংলাদেশ” যক্ষা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী রাজু গোয়ালা জানান, অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বসবাসের কারণেই চা বাগানগুলোতে এই সংক্রামক রোগের বিস্তার বেশি ঘটছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্থানীয়ভাবে এ রোগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের ডটস কর্নার ও তেলিয়াপাড়া হীড কর্নারে নিবন্ধিত যক্ষা রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৩০০ জন। এখানে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী কফ পরীক্ষা করাতে আসেন এবং তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের শরীরে জীবাণু শনাক্ত হয়। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ওষুধের সরবরাহে টানাটানি চলছে। রোগীদের ধরন অনুযায়ী প্রতিদিন ২ থেকে ৪টি ‘টু এফডিসি’ ট্যাবলেট সেবন করতে হয়। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে চাহিদামতো ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। সুরমা চা বাগানের যক্ষা রোগী রবি মুন্ডা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আগে মাসে একবার এসে পুরো মাসের ওষুধ নেওয়া যেত। এখন ওষুধ সংকটের কারণে মাসে তিন থেকে চারবার হাসপাতালে দৌড়াতে হচ্ছে। এতে দিনমজুর চা শ্রমিকদের যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যা তাদের জন্য চরম কষ্টকর। ওষুধ সংকটের সত্যতা স্বীকার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “সরবরাহে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই ওষুধের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে এবং রোগীদের ভোগান্তি কমবে।”

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com