সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

বাহুবলে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগী ॥ হাসপাতালে ভর্তি ১৩

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৪১ বা পড়া হয়েছে

হাবিবুর রহমান নোমান, বাহুবল থেকে ॥ বাহুবল উপজেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে হাম রোগীর সংখ্যা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এ সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া, কাশি, সর্দি ও দুর্বলতাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা প্রথমদিকে সাধারণ জ্বর বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা ভেবে অবহেলা করায় পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ২টা পর্যন্ত হামে আক্রান্ত মোট ১৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন শিশু এবং ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক। আক্রান্তদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই নতুন করে হাম রোগী শনাক্ত হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবিকা শান্তা বলেন, “গড়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শিশুদের সংখ্যাই বেশি। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকটি গ্রামে একাধিক পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব শিশুর নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়নি বা টিকাদান কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সহজেই একজনের কাছ থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। টিকাদানের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হলেও অনেক অভিভাবকের উদাসীনতা ও ভুল ধারণার কারণে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান শাহিন বলেন, “হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব শিশুর শরীরে জ্বরের সঙ্গে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে, তাদের অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। দেরি হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা অপুষ্টিজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।”
এদিকে, হাম রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয়ভাবে প্রচারণা চালানোর কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। একই সঙ্গে জনসমাগম এড়িয়ে চলা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাম রোগীর এ ঊর্ধ্বগতিতে বাহুবল উপজেলার জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com