রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
চুনারুঘাটে র‌্যাবের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি ‘জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ বিষয়ে হবিগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে জেলা জামায়াতের মতবিনিময় বানিয়াচংয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি আবু তাহের, সম্পাদক মোফাজ্জল নবীগঞ্জে লাইটেস স্ট্যান্ডের উদ্বোধন ও ইউএনও রুহুল আমিনকে সংবর্ধনা বনগাঁও গ্রামে সংবাদকর্মীর দোকানে হামলা-ভাংচুর ॥ হত্যার হুমকি শায়েস্তাগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১৯ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ হবিগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে ॥ জনদূর্ভোগ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে অধ্যাপক কামরুল হাসান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট জসিম সম্পাদক নির্বাচিত নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ওষুধ কোম্পানির ডিসকাউন্টকে ঘিরে ফার্মেসিতে চলছে রোগীর স্বজনদের বাকবিতন্ডা

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ওষুধ কোম্পানির দেওয়া ডিসকাউন্ট ও বিশেষ কমিশন নিয়ে ফার্মেসী কর্মীদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় ফার্মেসিতে একই জেনেরিকের ওষুধ ভিন্ন দামে বিক্রি, নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ নিতে চাপ, কিংবা ছাড়ের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত ওষুধের পরিবর্তে বিকল্প ব্র্যান্ড দেওয়ার সময় অনেক ফার্মেসিতে রোগীর স্বজনদের যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়া হয় না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ফার্মেসি নির্দিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কমিশন বা বোনাস পাওয়ার আশায় বেশি লাভজনক ব্র্যান্ড বিক্রিতে আগ্রহী হয়। ফলে একই ওষুধের দামে তারতম্য দেখা দিলে রোগীর স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন জুয়েল মাহমুদ বলেন, “একই জেনেরিকের ওষুধ পাশের ফার্মেসিতে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে জেনে প্রশ্ন করতেই কর্মচারীরা বিরক্ত হন। ছাড়ের কথা জানতে চাইলে তারা স্পষ্ট উত্তর দেননি।” অন্যদিকে একটি ফার্মেসির ব্যবস্থাপক জানান, “কোম্পানিগুলো বিভিন্ন সময় ডিসকাউন্ট ও প্রমোশন দেয়। সব তথ্য গ্রাহককে বোঝানো সবসময় সহজ হয় না। তবে আমরা প্রতারণা করি না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধ বাজারে স্বচ্ছতার ঘাটতি ও মূল্য তালিকার সঠিক প্রদর্শন না থাকায় এ ধরনের বিরোধ বাড়ছে। স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিটি ফার্মেসিতে কোম্পানি ও ব্র্যান্ডভিত্তিক সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শন, ডিসকাউন্টের নিয়ম লিখিতভাবে জানানো এবং বিকল্প ওষুধ দেওয়ার আগে রোগীর সম্মতি নেওয়া জরুরি। আবার কোনো কোনো ফার্মেসী ওষুধ বিক্রিতে কমিশন দিচ্ছেন। যে কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, কমিশনভিত্তিক বিক্রির কারণে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, পাশাপাশি আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। সংগঠনগুলোর দাবি, নিয়মিত তদারকি, অভিযোগ গ্রহণের হটলাইন সক্রিয় করা এবং অনিয়মে জড়িত ফার্মেসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ডিসকাউন্ট বা কমিশন থাকলেও ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।” তিনি রোগীর স্বজনদের রসিদ সংরক্ষণ ও প্রমাণসহ অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন।
সব মিলিয়ে, ওষুধ কোম্পানির ডিসকাউন্ট ও বিশেষ কমিশন ব্যবস্থার যথাযথ নিয়ন্ত্রণ এবং ফার্মেসিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com