বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

ইমামবাড়ি বাজারে রাতের আধারে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ৯ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ

  • আপডেট টাইম রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২০ বা পড়া হয়েছে

ছনি আহমদ চৌধুরী ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ি বাজারে ২৫০ গ্রাম কার্টুনসহ ১ কেজি মিষ্টি ওজন করা নিয়ে রাতের আধারে টর্চ লাইট জালিয়ে ৯ গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। আশংকাজনক অবস্থায় মামা-ভাগ্নেকে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ রবিবার ইমামবাড়ি বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্টান বন্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষে থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ১০ অক্টোবর বানিয়াচং উপজেলার সন্দলপুর গ্রামের রঙ্গিলা মিয়ার ছেলে আমির উদ্দিনের ইমামবাড়ি বাজারের ‘ভাই ভাই হোটেল’ থেকে টুকচানপুর গ্রামের নইজ্জা মিয়ার ছেলে সাদমান আহমেদ ইমন ২৫০ টাকা দিয়ে ১ কেজি মিষ্টি কিনে নেন। মিষ্টি কার্টুন সহ ওজন দেয়া হয়। পরে ইমন কার্টুন ছাড়া ওজন দিয়ে ৭৫০ গ্রাম মিষ্টি পান। আর কার্টুনের ওজন ২৫০ গ্রাম। অর্থাৎ কার্টুনের দাম পড়েছে প্রায় ৬২ টাকা। বিষয়টি নিয়ে ইমন ফেসবুকে পোষ্ট দেন। এ নিয়ে ফেসবুকে পক্ষে বিপক্ষে লেখালেখি চলতে থাকে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে ইমামবাড়ি বাজারে পেয়ে সাদমান আহমেদ ইমনকে বেধরক মারধর করে আমির উদ্দিন। এনিয়ে উভয় পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ইমামবাড়ি বাজারে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে সন্দলপুর গ্রামের পক্ষে শ্রীমতপুর, লহরজপুর, তাজপুর ও হরিপুর গ্রামের লোকজন অপর দিকে টুকচানপুর গ্রামের পক্ষে দেবপাড়া, কালিয়ারভাঙ্গা ও পাথারিয়া গ্রামের লোকজন অংশ নেয়। এ সময় ইমামবাড়ি বাজারে বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের অন্ধকারে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বাজার জুড়ে টর্চের আলো আর চিৎকারে আতঙ্কে কেঁপে উঠেছিল ইমামবা বাজার এলাকা। প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং থানা পুলিশ ছুটে এসে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়।
আহতরা হল-সুজন মিয়া, রায়হান মিয়া, রুহাদ মিয়া, শকিল মিয়া, দিলারা বেগম, রিয়াদ, রহমত আলী, রবি মিয়া, ইজানুর রহমান, মুহিবুর রহমান, আজিজুল, মিজান মিয়া, এরশাদ মিয়া, জাহাঙ্গীর, কামাল মিয়া, পাভেল, গউছ, সাদমান আহমেদ ইমন। এর মধ্যে সাদমান আহমেদ ইমন ও তার ভাগ্নেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী ও সেনাবাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ইমামবাড়ি বাজারের সব দোকানপাট রবিবার সারাদিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সকালেই মাইকিং করে বিষয়টি সবাইকে জানানো হবে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com