শেখ আমির হামজা, আজমিরীগঞ্জ থেকে ॥ আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিরাট উজানপাড়া গ্রামে সালিশ চলাকালে এক পক্ষের সর্দারের উপর হামলার ঘটনায় পন্ড হয়ে গেছে শালিস বিচার। এ নিয়ে দু’পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে বৃহস্পতিবার বিরাট উজান পাড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মোঃ জজ মিয়া ও বর্তমান মেম্বার মুজিবুর রহমান মজু মিয়ার পক্ষের লোকজনের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি মিমাংসায় এগিয়ে আসেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিএনপি ও জামায়েত ইসলামের নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যস্থতায় আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সফিকুল ইসলামকে নিয়ে ঘটনাটি মিমাংসায় গতকাল শনিবার বিরাট গ্রামে শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই। উপস্থিত ছিলেন আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সফিকুল ইসলাম সহ উপজেলার বিশিষ্ট মুরুব্বিয়ান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। বিচারের শেষ পর্যায়ে এসে বিচারক মন্ডলী বোর্ড গঠন করেন সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য। এ সময় মুজিবুর রহমান ও তার ছেলে সহ তাদের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের মোঃ জজ মিয়ার উপর হামলা চালানো হয়। এতে হট্টগোলের সৃষ্টি হলে বিচারক মন্ডলী ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আহত অবস্থায় জজ মিয়া (৫০), আলীম মিয়া (২৫) ও মোছাঃ সাহারা খাতন (৪০) আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর শালিস বিচার পন্ড হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, বিচারের শেষ পর্যায়ে দু’পক্ষের লোকজনের মাঝে হাতাহাতি হয়। এতে শালিস কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ ১নং সদর ইউনিয়নের বিরাট উজানপাড়া রাজারহাটি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জজ মিয়া ও একই এলাকার বাঁশহাটিয়ার মোঃ মুজিবর রহমান ওরফে মজু মেম্বারের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মাসখানেক পূর্বে মজু মেম্বারের ভাতিজাকে জজ মিয়ার লোকজন মহিষ চুরির অপবাদে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় সালিশ বৈঠকে নিষ্পত্তি করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে গত মঙ্গলবার মজু মেম্বারের লোকজন জজ মিয়ার পক্ষের একজনকে মারধোর করে। পরদিন বুধবার জজ মিয়ার লোকজন মজু মেম্বারের একজনকে ধান শুকানোর মাঠে মারধোর করে। হামলা পাল্টা হামলার ঘটনার জের ধরে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশত লোক আহত হয়। এ ছাড়া সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।