মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

মাধবপুরে প্রতিবন্ধীকে খুন করে প্রতিপক্ষের নামে হত্যা মামলা ॥ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের নিকট এলাকাবাসীর আবেদন

  • আপডেট টাইম রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৭৬ বা পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ রাষ্টু পাঠান (৩৫)। একজন প্রতিবন্ধি। মাধবপুর উপজেলার পৌর এলাকার পূর্ব মাধবপুরের গুণি মিয়ার ছেলে। ৮ ছেলের মাঝে রাষ্টু প্রতিবন্ধি হওয়ায় দুঃখের সীমা ছিল না তার পরিবারের। গুণি মিয়ার ছেলে উজ্জল মিয়া পাঠান এর বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা অভিযোগ রয়েছে। তার লোকজনের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী প্রতিবাদী হয়ে উঠলে প্রতিবন্ধি রাষ্টু মিয়া হত্যার ঘটনা ঘটে। অনেকের দাবী রাষ্টুকে নিজেরা হত্যা করে প্রতিপক্ষের নামে খুনের মামলা দিয়ে নিজের আধিপত্য নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে প্রতিকার ছেলে পূর্ব মাধবপুর, মুরাদপুর, হরিশামা, সুন্দাদিণ ও পান পাড়া এলাকার লোকজন পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিকার ছেয়ে আবেদন করেছে।
অভিযোগে জানা যায়, মাধবপুরে উজ্জ্বল পাঠান ও তার লোকজন মাদক ও দখলবাজীসহ নানা অসামাজিক কাজের সাথে জড়িত। তাদের ভয়ে এলাকার সাধারন লোকজন তটস্থ থাকে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের উপর নেমে আসে অত্যাচার ও নির্যাতন। মিথ্যা মামলা দিয়ে করা হয় হয়রানী। উজ্জলের বিরুদ্ধে খুনসহ একাধিক অভিযোগে মামলা ও সাধারন ডায়েরী রয়েছে। তার দাদন ব্যবসার ফাঁদে পড়ে অনেকে নিঃস্ব হয়েছে।
১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা রাতে উজ্জ্বল বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে কয়েকটি গ্রামের হাজারো জনতা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ সভা করে। সভা শেষে বাড়ী ফেরার পথে প্রতিবাদী লোকজনের উপর উজ্জ্বলের লোকজন হামলা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এরই মধ্যে উজ্জ্বলের প্রতিবন্দি ভাই রাষ্টু মিয়া নিজবাড়ীতে রহস্যজনক খুন হয়। প্রতিবাদকারীদের ফাঁসাতে রাষ্টু খুনের দায় চাপানো হয় জনসাধারনের উপর। তাদের নামে দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। মামলা দায়েরের ফলে কয়েক গ্রামের সাধারন মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের অত্যাচার ও মিথ্যা মামলার ফাঁদ থেকে বাচঁতে আন্দিউড়া ও বহরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ কয়েকশত মানুষ স্বাক্ষরিত একটি আবেদন দিয়েছেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে। আবেদনে স্বাক্ষরকারীরা রাষ্টু হত্যার সুষ্টু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনার পর পরই উজ্জ্বলের লোকজন মোটরসাইকেল নিয়ে স্বশস্ত্র মহরা দেয়া শুরু করে। এতে এলাকার নারী ও শিশুরা ভয়ে আতংকে আছে।
সরজমিনে পূর্ব মাধবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোন পুরুষ লোকজন নেই। নারী ও শিশুরা দলবদ্ধভাবে বাড়ীতে সময় কাটাচ্ছে আতংকের মাঝে। হত্যা মামলার আসামী আনোয়ার আলী স্ত্রী রেজিয়া বেগমের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, রাষ্টু মিয়া খুন হয়েছে নিজ বাড়ীতে। তার গলায় কাটা চিহ্ন। পুলিশ তাদের ঘরের ভিতর থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। অথচ মামলায় চার্জের আসামী করা হয়েছে ১৯জনকে। ৪৪ জনের নামে হত্যা মামলার পর গং রাখা হয়েছে আরও ১০০ জনের নাম। এই গং এর ভয়ে কোন পুরুষ লোক এলাকায় থাকছে না। একজন প্রতিবন্ধিকে কিভাবে ১৯জন আঘাত করে। আর শরীরের আর কোথাও কোন চিহ্ন নেই কেন।
তিনি আরও জানান, পুরুষ লোকজন বাড়ীতে না থাকায় তারা শিশু ও নারীরা রাতের বেলা কয়েক ঘরের মানুষ এক ঘরে গিয়ে রাত কাটান। আর রাতের বেলা ফাকা ঘরে এসে লোটপাট করা হয়। দিনের বেলাও কেউ বাড়ী থেকে রাস্তায় যেতে সাহস পায়না। উজ্জলের লোকজন আমাদেরকে দেখলেই হুমকি দিয়ে বলে থানা কিনেছি ৬ বছরের জন্য এবং মন্ত্রী কিনেছি ৫ বছরের জন্য। আমাদেরকে কেউ কিছু করতে পারবে না।
ওই বাড়ীতে থাকা কয়েকজন ছাত্রী জানায়, উজ্জলের লোকজনের ভয়ে এলাকার স্কুল ও কলেজে যাতায়াতকারী ছাত্রীরা একা চলাফেরা করতে পারতনা। তারা ছাত্রীদের ওড়নাতে টান দেয়াসহ ইভটিজিং করত।
এলাকাবাসী আরও জানায়, মাধবপুর-শাহপুর সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লোকজন প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হয়। এনজিওর কর্মীরা কিস্তির টাকা আদায় করে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে পারে না। তাদের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে ২০১৩ সালে মাধবপুর পৌরসভার মেয়রসহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাদন ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসহায় লোকদেরকে ফাঁদে ফেলে সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর রেখে অনেকের ভিটে মাটি জায়গা-জমি নিজের নামে লিখে নেয়। অনেককে ভয়ভীতি ও মারধোর করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। তাদের এহেন আচরনে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে।
ডিআইজি ও পুলিশ সুপার বরাবর এলাকাবাসীর আবেদনের বিষয়টি তদন্ত করছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা। তিনি বলেন, হত্যা মামলায় যেভাবে আসামী দেয়া হয়েছে হত্যাকান্ডের নমুনায় তার ভিন্নতা পাওয়া যায়। কারণ আক্রমন করে হত্যা করলে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত থাকার কথা। কিন্তু এখানে শুধু গলায় কাটা পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারের রাষ্টু পাঠান এর ভাই ও হত্যা মামলার বাদী উজ্জল পাঠান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার ভাই রাষ্টু প্রতিবন্ধি ছিল না। সে একজন ব্যবসায়ী। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মূলত গত মাসে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারনে প্রতিপক্ষ আমার ভাইকে হত্যা করে। আর আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তাতে যে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর এর কথা বলা হয়েছে তাও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে। হত্যা মামলার ঘটনা সম্পূর্ণ সঠিক এবং মাধবপুর থানা পুলিশ ৪জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com