বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী নবীগঞ্জে অধ্যক্ষ হুমায়ুনকে শোকজ টিউশন ফি নিয়ে টালবাহানা, সরকারি নির্দেশনা অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ফনি ভুষন দাশ আর নেই নবীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো “গানে গানে জুলাই” শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান বাহুবলে মাছের খামারে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার ॥ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রিংগনকে হুমকিদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ-পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ॥ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

বানিয়াচঙ্গের মশাকলিতে চাঞ্চল্যকর সুজিত হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল ॥ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শ্বাসরোধে ও স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুচিয়ে সুজিতকে হত্যা করা হয়

  • আপডেট টাইম রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৯ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ ২ বছরের তদন্ত শেষে বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের মশাকলি গ্রামের আলোচিত সুজিত হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্তে মামলার প্রধান আসামী হরিলাল দাস সহ ২১ জনকে অব্যাহতি ও সুবিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয় কুমার দাশের পুত্র দীপ্তজিৎ দাশ বাঁধন সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি সুজিত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের সাব ইন্সপেক্টর বাপ্পু লাল গত বছরের ২৩ অক্টোবর অদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের মশাকলি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে সুব্রত দাশ (৩০) নামে এক ব্যাক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। অপর দিকে প্রতিপক্ষের সুজিত দাশ নামে আহত এক যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট নেয়ার পথে তার মৃত্যু হলে দু’পক্ষ থেকে দু’টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহত সুজিতের স্ত্রী দ্রোপদী রানী দাস বাদী হয়ে ৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে সুজিত হত্যা মামলায় ময়না তদন্তের রিপোর্টে সুজিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার সাথে সাথে নড়ে চড়ে বসে সুজিত হত্যা মামলার আসামী পক্ষ। তারা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে আবেদন জানালে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে প্রেরন করা হয়। এদিকে সুব্রত হত্যা মামলাটিও তদন্তের জন্য পিবিআইতে প্রেরন করা হয়। পিবিআই সুজিত হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা গত দু’বছরে এ মামলার তদন্তকালে ৩৫ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। এছাড়া তদন্তে আধূনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সুজিত হত্যা প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। তদন্তে উল্লেখ করা হয় ঘটনার দিন নিহত সুজিত দাশ সংঘর্ষে আহত হয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাতের কনুই ও পায়ে ইটের আঘাতে সামান্য আহত হলেও তাকে উন্নত চিকিৎসার নামে সিলেট নেয়া হয়। এবং সিলেট নেয়ার সময় পথিমধ্যেই প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য সুজিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারই লোকজন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় মশাকলি গ্রামের একটি বিরোধীয় ভূমি নিয়ে সুবিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয় কুমার দাশের পিতা হর কুমার দাস ও শনি দাস গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। গত ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই শনি দাস গংদের পক্ষের সুব্রত দাস নিহত হয়।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান জয় কুমার দাসের লোকজন প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নিজেরাই সুিজতকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। সুজিত দাসকে উন্নত চিকিৎসার নামে এ্যাম্বুলেন্স যোগে সিলেট রেফার্ড করলে আসামী দিপ্তজিৎ দাস বাঁধন, বাঁধনের বন্ধু জয়পাল, তানভীর হোসেন ও এ্যাম্বুলেন্স চালক কাওসার মিলে ষড়যন্ত্র করে তারা ভিকটিম সুজিত দাসকে সিলেট নিয়ে যাবার সময় হত্যা করে। যাতে পরবর্তিতে মামলা দায়ের করার সময় উভয় পক্ষের মামলা সমান সমান হয়। তদন্তে অরো উল্লেখ করা হয়, ঐ দিন দুপুর ১২.৪৭ মিনিটে বাঁধন দাস, জয় পাল, তানভীর হোসেন ও এ্যাম্বুলেন্স চালক কাওসার ভিকটিম সুজিতকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সিলেট যাবার পথে লামাবাজার পৌছলে ৩.২২ মিনিটে সুজিত দাস সহ এ্যাম্বুলেন্সটিকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং ভিকটিম সুজিত দাসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সুজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করতে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে গলায় আঘাত করে সুজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঐদিন সন্ধ্যা ৭.১ মিনিটে আসামী তানভীর এবং কাওসার ভিকটিম সুজিতের মৃতদেহ তার কোন নিকট আত্মীয়দের ছাড়াই হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে রেখে চলে যায়।
এদিকে পিবিআই তদন্তে নিহত সুজিতের স্ত্রী দ্রোপদী দাস বাদী হয়ে ৬৪ জনের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেছিল সেই মামালার প্রধান আসামী হরিলাল দাস সহ ২১ জনকে অব্যাহতি দেয়ার পাশাপাশি দীপ্তজিৎ দাশ বাঁধন, কাওসার আহম্মেদ, জয় পাল ও তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে সুজিত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। এদিকে একই সময়ে পিবিআই তদন্ত অফিসার আব্দুল আহাদ সুব্রত দাস হত্যা মামলারও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন। এ মামলায় সুবিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয় কুমার দাস সহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন আদালতে। এদিকে মামলার তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিলের পর থেকেই বিবাদীরা হরিলাল দাস ও তার লোকজনকে মামালা অপোস করার জন্য নানা ভাবে হুমকি ধামকি ও চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com