বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
নবীগঞ্জে ১৯ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি জি কে গউছ বাহুবলে ইনডোরে খেলার সময়সূচি নিয়ে ৩ ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষ ॥ আহত অর্ধশত মাধবপুরে আবাসিক হোটেলে অভিযান ॥ নারী-পুরুষসহ আটক ১০ নবীগঞ্জের বুরহানপুরে কবরস্থানের সুরক্ষা ও পবিত্রতা রক্ষায় প্রবাসীদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির আয়োজনে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত দাউদনগর বাজারে ফের তীব্র যানজট ফুটপাত দখলে নাকাল শায়েস্তাগঞ্জবাসী বছর না যেতেই নতুন ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি ॥ হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুর্ভোগে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীরা মাধবপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর নদী থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালী পূর্ব সমাবেশে হুইপ জি কে গউছ দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বিএনপি

নবীগঞ্জের কুশিয়ারা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০১৪
  • ৮৪৫ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর বিশাল বালু মহাল এখন বালু খেকোদের দখলে। প্রতিদিন ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা। এ ব্যাপারে অভিযোগ দিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না। নেতার Untitled-2প্রভাবের কাছে সব কিছু নস্যি। ফলে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। বালু উত্তোলনের ফলে ওই এলাকার পরিবেশ বিপর্যয় এর পাশাপাশি নদী ভাঙ্গন চরম আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক পত্রে লিখিতভাবে কয়েছ গাজীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
এমনি করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। অন্যদিকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন বালু উত্তোলনকারীরা। দীর্ঘ ৬ মাসে কম পক্ষে ৩/৪ শত কোটি টাকার বালু তোলা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আমাদেরকে কয়েজ গাজী একটি কাগজ দেখিয়েছেন তার আলোকে বালু তোলছেন, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসী অভিযোগ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে কোন অনুমতি ছাড়া প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ মৌসুমে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় টানাটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নবীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিস থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধের জন্য নির্দেশ দিয়ে বলা হয় কাগজ পত্র যাছাই বাছাই করে পরবর্তী নির্দেশ দেয়া হবে। গত ২ মার্চ সরজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। গত ৩ মার্চ সকালে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবারো বালু উত্তোলন কারীদের তলব করা হয়। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বালু উত্তোলন অব্যাহত ছিল।
এব্যাপারে এলাকাবাসী বালু উত্তোলন বন্ধের দাবী জানিয়ে গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ ভুমি মন্ত্রণালয়, নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক, জেলা দুনীর্তি দমন কমিশন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) বরাবরে দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী আউশকান্দি ইউনিয়নের পারকুল, পাহারপুর, বনগাও, দীঘলবাক ইউনিয়নের কুমারকাদা, আহমদপুর, দুর্গাপুর, হুসনপুর, ফাদুল্লাহ, দীঘলবাক, কসবা, গালিমপুর, মাধবপুর, চরগাও ও দৌলতপুর গ্রামগুলো নদী ভাঙ্গন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। প্রায় প্রতি বছরই এসব গ্রামের মধ্যে কোন না কোন গ্রাম, হয় বর্ষাকালে না হয় হেমন্ত কালে নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। এতে ভাঙ্গন কবলিত গ্রামের অনেক ঘরবাড়ী জায়গা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার ফলে অনেকে সহায় সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ভাঙ্গনরোধ ও গ্রামবাসীকে রক্ষায় সরকার কুশিয়ার নদীর তীর দিয়ে শেরপুর থেকে আজমিরিগঞ্জ পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা ডাইক নির্মান করেছে। এ ছাড়াও সরকার প্রতি বছরই ভাঙ্গন রোধে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে কুশিয়ারা ডাইকে সংস্কার কাজ করছে।
অপরদিকে কুশিয়ারার নিকটবর্তী রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড ও নির্মানাধিন ৯৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট। প্রায় ৩ মাস ধরে স্থানীয় ঠিকাধারী প্রতিষ্টান সিটকো কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতারা দুর্গাপুর গ্রামের কাছে অন্তত ৫টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিনরাত অবাধে বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ ঘনফুট বালু বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে সরবরাহ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বালু জমাট করে রাখা হচ্ছে। এদিকে মৌলভীবাজারের আশফাক আহমদ নামে এক ব্যক্তি নদী ড্রেজিং করার জন্য পানি উন্নয়নবোর্ডের অনুমতি নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বর্তমানে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার জন্য দাবি তুলেছেন। এ ব্যাপারে কয়েছ গাজী বলেন, তারা সরকারকে রয়েলিটি দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। বর্তমানে যে ৩/৪টি ড্রেজার বালু উত্তোলন করছে এগুলো কোথা থেকে এসেছে তা তিনি জানেন না। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে আমরা বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছি। হাওয়া থেকে উড়ে এসে কেউ বালু উত্তোলন করলে আমার কিছু করার নেই।
হাজী ঈমান উল্লাহ ও হাজী আব্দুল মালিক বলেন, কাউকে এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com