মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী নবীগঞ্জে অধ্যক্ষ হুমায়ুনকে শোকজ টিউশন ফি নিয়ে টালবাহানা, সরকারি নির্দেশনা অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ফনি ভুষন দাশ আর নেই নবীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো “গানে গানে জুলাই” শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান বাহুবলে মাছের খামারে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার ॥ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রিংগনকে হুমকিদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ-পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ॥ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট ভুল আসে?

  • আপডেট টাইম সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ৮১৪ বা পড়া হয়েছে

ডাঃ সৈয়দ এম আবরার (জাবের)
১। মানদন্ডের অভাব-অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মানদন্ড করা থাকেনা। সঠিক মানদন্ড না থাকলে একেক জায়গায় বা একই জায়গায় একই টেষ্ট রিপোর্ট এর তারতম্য হতে পারে।
২। পরিমান আর কাজের কোয়ালিটির মাঝে সমন্বয়হীনতা-কিছু কিছু টেষ্ট আছে যেগুলি করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। যেমন রক্তের, প্রশ্রাবের, হিষ্টোপ্যাথোলজিকাল টেষ্ট ইত্যাদি। এমনকি মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে প্রশ্রাবের সাধারণ পরীক্ষাতেও অনেক সময়ের প্রয়োজন। প্রায় ডায়গনস্টিক সেন্টারে/ল্যাবরেটরীতে একজন মাত্র টেকনিশিয়ান/টেকনোলজিষ্ট থাকেন। ফলে ওই একজনের পক্ষে মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়ে। কোন রোগী টেষ্টের জন্য রিসিপশনে আসলে পারতপক্ষে তাকে ফেরত দেয়া হয় না। এ জন্য ডায়গনস্টিকে কাজের চাপ বাড়ে ফলে এইসব রিপোর্টে কোয়ালিটি না থাকাটাই স্বাভাবিক।
৩। যন্ত্রপাতি-কয়েকশত টাইপের পরীক্ষা আছে। কিছু কিছু কাজের জন্য আলাদা আলাদা মেশিনের দরকার হয়। এছাড়া মেশিনগুলোর যথোপযুক্ত যতœ ও সংরক্ষনের বিভিন্ন নিয়ম না মানা হলে, অতিরিক্ত কাজের জন্য মেশিনগুলো ভুল রিপোর্ট দিতে পারে।
৪। টেষ্ট মেশিন চালানোর জন্য উপযুক্ত টেকনিশিয়ান দরকার-চুলা যত ভালোই হোক তরকারীতে যেমন মসলা লবণ ইত্যাদি কম হবার কারণে স্বাদের তারতম্য ঘটে, তেমনি টেষ্ট মেশিনে ঠিকমত রক্ত ও প্রশ্রাবের নমুনা না দেয়া হলে ভুল রিপোর্ট আসতে পারে। অতএব দামী মেশিন, লেটেষ্ট মেশিন হলেই হবে না, প্রয়োজন দক্ষ ও শিক্ষিত টেকনিশিয়ান।
৫। সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের সাথে যোগাযোগের অভাব-কোন কারণে মেশিনে খুব অস্বাভাবিক রিপোর্ট আসলো, টেকনোলজিষ্ট/টেকনিশিয়ানের উচিৎ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সাথে সরাসরি কথা বলা। যাতে সে এই রিপোর্টটি পূনরায় (বিনামূল্যে) পরীক্ষা করাতে পারে এবং কনফার্ম হতে পারে রোগীর লক্ষনের সাথে পরীক্ষার রিপোর্টের সমন্বয় আছে কি না। আমাদের ক্ষেত্রে এই জরুরী বিষয়টির দিকে নজর থাকে না।
৬। অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে বলা বা সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের সাথে পরামর্শ-সবাই সব সময় সঠিক না ও থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্য আরেকজনের সাথে পরামর্শ করে নিতে হয়। অনেক সময় নিজের আমিত্ব¡ বা অহংকারের জন্য কিছু চিকিৎসাকর্মী এই প্রয়োজনীয় পরামর্শটি করেন না।
৭। ঠিকমতো স্যাম্পল কালেকশন, পরিবহন বা সংরক্ষন না করা-বিভিন্ন স্যাম্পল ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সংরক্ষণ করতে হয়। ঠিকমতো স্যাম্পল কালেকশন, পরিবহন বা সংরক্ষন করার ব্যাপারে অবহেলা থাকলে ভুল রিপোর্ট আসে।
৮। অদক্ষ টেকনোলজিষ্ট-বর্তমানে ডায়গনষ্টিক সেন্টার ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে চারদিকে। কোন রকমে অটো মেশিন, এক্সরে ইত্যাদি এনেই শুভ উদ্বোধন করা হচ্ছে। কিন্তু যে মানুষটি ওই মেশিনের সামনে বসে সে লোকটির সঠিক পন্থায় কাজ করার দক্ষতা আছে কিনা, সে ব্যাপারে যথাযথ জ্ঞান রাখে কিনা তা যাচাই না করে কিংবা দক্ষ টেকনোলজিষ্ঠকেই অতিরিক্ত কাজের চাপ দিয়ে ক্লান্ত করে তুললে তাদের দ্বারা ভুল হতে পারে।
৯। রোগীর নিজের কারনে রিপোর্ট ভুল-খালিপেটে টেষ্ট করাতে হলে রোগী কিছু খেয়ে আসলে, খাবার ৬ ঘন্টার মধ্যে পেটে আল্ট্রাসনোগ্রাফ করলে, এছাড়া কিছু কিছু টেষ্টের আগের দিন বা রাতে কিছু নিয়ম নীতি দেয়া থাকে। রোগী নিজে যদি এই নিয়মগুলি না মেনে থাকেন তবে তার রিপোর্ট যত ভাল সেন্টারেই করানো হোক না কেন, তা ভুল হতে পারে।
এককথায় টেষ্টের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আসুন, দালালদের চিনে রাখুন, ভীড় এড়িয়ে চলুন। রোগী, ডাক্তার, প্যাথোলজিষ্ট, টেকনেশিয়ান কোন একজন তাড়াহুড়ো করলে টেষ্ট ভুল হয়ে যেতে পারে।
সবাই ভালো থাকবেন।
কৃতজ্ঞতাঃ- ঈড়সসড়হ গরংঃধশবং রহ ঈষরহরপধষ গবফরপরহব নু কধংযরহধঃয চধফযরধৎু,
ডাঃ সৈয়দ এম আবরার (জাবের)
সিনিয়র মেডিকেল অফিসার
হবিগঞ্জ ডায়াবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতাল
মোবাইলঃ ০১৭২১-৫১৯৪৫৫

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com