মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী নবীগঞ্জে অধ্যক্ষ হুমায়ুনকে শোকজ টিউশন ফি নিয়ে টালবাহানা, সরকারি নির্দেশনা অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ফনি ভুষন দাশ আর নেই নবীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো “গানে গানে জুলাই” শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান বাহুবলে মাছের খামারে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার ॥ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রিংগনকে হুমকিদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ-পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ॥ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী হুক্কা ॥ দৈনতার সাথে বসবাস কারিগর মসকুদ আলীর

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • ৮৩৭ বা পড়া হয়েছে

বরুন সিকদার ॥ শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের কৃষক বা দিনমুজুরদের কাছে সুখটান হিসেবে পরিচিত বিড়ি বা সিগারেট। এমন এক সময় ছিল যখন গ্রাম- বাংলায় বিড়ি সিগারেট ছিল না। তখন তাদের ধুমপানের একমাত্র সম্বল ছিল পাকা নারিকেলের ডাবার তৈরি হুক্কা। কাঠের ধরনী আর কালো বর্নের ডাবায় তৈরী হুক্কা দামে সস্তা দেখতেও বেশ আকর্ষনিয় হয়ে থাকে। কিন্তু সময়ের ধারাবাহিকতায় ঐতিহ্যবাহী হুক্কা আজ হারিয়ে যাচ্ছে।
ধুমপান স্বাস্থের জন্যে ক্ষতিকারক। সে ক্ষেত্রে  হুক্কা টানাও ব্যাতিক্রম নয়। যেনে শুনেই সব ধুপায়িরা এ বিষকে গ্রহন করছে। এ দিক থেকে হবিগঞ্জ জেলাও পিছিয়ে নেই। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে মাদক বা ধুমপান বিরোধী অভিযান পরিচালনা হলেও সুফল এখনোও মিলেনি।
নতুন ও দামী ব্রান্ডের কিং ফিল্টারের সিগারেটে যখন সারা দেশ জুড়ে সয়লাব। সে ক্ষেত্রে চরম ক্ষতির মুখে হুক্কা তৈরী কারিগড়েরা। জেলা জুরে হাতে গোনা কয়েকজন কারিগড় থাকলেও লাভ জনক না হওয়াতে অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন বাপ-দাদাদের এ পেশা।
কিন্তু অর্থ-দৈনতার যে সব কাড়িগরদের আষ্ঠে পিষ্ঠে রেখেছে তাদের যেন কিছুই করার নেই। এমনেই এক কাড়িগর মসকুদ আলী (৮৫)। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন, অন্য কোন পেশা না জানার কারনে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরেই শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় বাপ-দাদার কাছে শেখা হুক্কা তৈরী ও বিক্রি করে কোন মতে দিন যাপন করছেন। মসকুদ আলী সদরের হরিপুর এলাকায় বাসিন্দা।  দুই পুত্র ও দুই কন্যার সন্তানের জনক। ছেলেরা কেউ তার দেখাশুনা করে না বিধায় সংসারের বোঝা বইতে গিয়ে বৃদ্ধ বয়সেও রোদ-বাদলের মাঝে খোলা আকাশের নিচে ঝুড়িতে করে হুক্কা বিক্রি করছেন।
প্রতিটি হুক্কার মূল্য ৮০-১০০ টাকার। শ্রম অনুযায়ী প্রতিটিতে লাভের মাত্রা একেবারেই কম। গড়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি  হুক্কা বানানো যায়। হুক্কা বানাতে ব্যবহৃত হয় পাকা নারিকেলের ভিতরের অভঙ্গুর খোলস বা চাড়ি যাকে ডাবা বলা হয়। ধারালো ছুড়ি ও দা দিয়ে চাড়ির উপরের ছোবলা বা আঁশ ভালভাবে পরিস্কার করা হলে একপর্যায়ে কালো রং ধারন করে। পরে নাড়িকেলের উপরের ধারালো ছুড়ি দিয়ে গর্ত করে ভিতরে থাকা সাদা বর্নের সাশ ( যা আমরা খাই) ও পানি বের করা হয়। তার উপরে বসানো হয় কাঠের তৈরি নৈই । এসব নৈই আনা হয় বাংলাদেশের দক্ষিন অঞ্চল বরিশাল  থেকে।
মসকুদ আলীর সাথে আলাপকালে জানায়, পাকিস্তানের সময় থেইক্যা (থেকে) ই (এই) কাজ করতেছি। আব্বাার কাছ থেইক্যা (থেকে) ই (এই) কাজ শিখছি। লাভ না হইল্যেও (হলেও) ই (এই) কাজ কইরা (করে) কোন মতে বাইচ্ছা (বেঁচে) আছি। আর কোন কাজ পারি না। মরার (মৃত্যুর) আগ (পূর্ব) পর্যন্ত ই(এই) কাজ কইরা (করে) যাইতাম (যেতে) চাই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com