বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বানিয়াচংয়ে ৯ ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা ॥ ২ বছরেও শুরু হয়নি বিচার শহীদ পরিবারে তীব্র ক্ষোভ দেউন্দি-রঘুনন্দন বনাঞ্চলের গাছ কেটে সাবাড় ॥ হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য আজ “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস” এই আন্দোলনে হবিগঞ্জ জেলায় ১২ ছাত্র-জনতা ও পুলিশ প্রাণ হারান মাধবপুরে লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম হবিগঞ্জ জেলা শাখার নয়া কমিটি বানিয়াচঙ্গে শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় ডা. জীবন ॥ আজকের কৃতিরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউ.কে এর উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণ ইংল্যান্ড আলাল মহসিনের চুরি যাওয়া ২টি আইফোন ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার তেতৈয়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হলো শিশু

নবীগঞ্জে কলেজ ছাত্র অনোজ হত্যাকান্ড ॥ পলাতক সুজন দাশ নারায়নগঞ্জে গ্রেপ্তার

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৭৪৫ বা পড়া হয়েছে

এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর পশ্চিম ইউনিয়নের জগন্নথপুর গ্রামে চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্র হত্যা মামলার পলাতক আসামী সুজন দাশ (৩০) কে প্রায় ১ বছর পর ঢাকার নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জের ডিবি পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে গ্রেফতার করে হবিগঞ্জ আদালতে সোর্পদ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে প্রেরন করেন। সুজন দাশ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের সুখলাল দাশের ছেলে। বিগত ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ঘটনার পর থেকে সে পলাতক ছিল।
pic-1

pic-2উল্লেখ্য, ২০১৫ সনের ১২ নভেম্বর জগন্নাথপুর গ্রামের শচীন্দ্র দাশের ধানের গোলা থেকে সিলেট মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ২য় বর্ষের ছাত্র অনুজ কান্তি রায় (২১) এর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় অনুজের পরিবারের লোকজনের দাবী ছিল এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। নিহত মেধাবী ছাত্র অনুজ রায় ওই গ্রামের অখিল রায়ের ছেলে।
নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর ইউনিয়নের জগন্নথপুর গ্রামের অখিল রায়ের ছেলে সিলেট মদন মোহন কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র। সে সিলেটে হোস্টেলে থেকে লেখা পড়া করতো। ২০১৫ সালে ঘটনার কয়েক দিন পুর্বে বাড়িতে বেড়াতে এসে ছিল। অনুজ রায় গত বছরের ১১ নভেম্বর বুধবার সিলেট যাওয়ার উদ্যোশে নিজ বাড়ি থেকে কাপরের ব্যাগ নিয়ে রওয়ানা হয়। এর পর থেকে পরিবারের লোকজনের সাথে তার কোন যোগাযোগ ছিল না। পরদিন ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ স্থানীয় লোকজন কলেজ ছাত্র অনুজের লাশ দেখতে পান একই গ্রামের শচিন্দ্র দাশের ধানের গোলায়। এ খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অনুজের মৃতদেহ দেখতে পায়। সাথে সাথে পুলিশকে খবর দিলে নবীগঞ্জ থানার তৎকারীন এসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অনুজের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পরে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে লাশ প্রেরন করা হয়। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে অজ্ঞাতনামা আসামী করে নিহতের মা সবিতা রানী রায় একমাত্র ছেলের হত্যাকান্ডের ঘটনার মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। এক পর্যায়ে তার পরিবারের লোকজনের দাবীর প্রেক্ষিতে সন্দেহজনক ভাবে একই গ্রামের সুখলাল দাশের ছেলে সুমন দাশকে গ্রেফতার করে তৎকালীন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারোগা নজরুল ইসলাম। পরে সুমনের স্বীকারোক্তি মতে নির্ঝন স্থান থেকে মৃত কলেজ ছাত্র অনুজ রায়ের কাপড়ের ব্যাগ এবং তার মা নিয়তী রানী দাশ ও বোন শিল্পী রানী দাশের স্বীকারোক্তি মতে মানি ব্যাগ ও নগদ টাকা উদ্ধারসহ উক্ত ৩ জনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। এক পর্যায়ে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় হবিগঞ্জের ডিবি পুলিশ। সন্দেহভাজন আসামীরা পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপন করে। মামলার দীর্ঘ তদন্তকালে বিভিন্ন স্থানে ডিবি পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে হানা দিলেও কাউকে না পেয়ে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমতাবস্থায় গোপন সুত্রের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই সুদ্বীপ রায়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নারায়নগঞ্জ পুলিশের সহযোগিতায় ফতুল্লা থানার লালখার এলাকা সংলগ্ন হাজীর মোড়স্থ এক ভাড়াটে বাসা থেকে সুজন দাশকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অপর সন্দেহভাজন আসামী ইমন দাশ, রিপন দাশ ও লিকসন দাশ পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এদিকে মেধাবী ছাত্র অনুজ রায় হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্বস্থি ফিরে এসেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com