স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস”। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রভাব হবিগঞ্জ জেলাতেও পড়ে। জেলার বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। যা সে সময় জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। জুলাই আন্দোলনে হবিগঞ্জ জেলা সদরে ২ জন ও বানিয়াচঙ্গে ৯ জন ছাত্র-জনতা ও ১ জন এসআই নিহত হন। প্রকাশ, ১৬ জুলাই শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রীজ গোলচত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের মাধ্যমে হবিগঞ্জে আন্দোলনের সূচনা হয়। এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অবরোধের শেষ পর্যায়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অবরোধকারীদের উপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র-জনতা আহত হন। পরবর্তী সময়ে আন্দোলন জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিন হবিগঞ্জ শহরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন অব্যাহত রাখেন।
২ আগস্ট হবিগঞ্জ শহরে ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শহরের তিনকোণা পুকুর পাড় এলাকায় সংঘর্ষে মোস্তাক আহমদ নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন। ওই দিন জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। তৎকালীন এমপি আবু জাহিরের বাসভবনেও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর আন্দোলন আরও উত্তেজনাপূর্ণ রূপ নেয়, শহরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পায়। শহরের সকল ধরনের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ৩ আগষ্ট হবিগঞ্জ সদর আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এডঃ আবু জাহিরের নেতৃত্বে শহরে আওয়ামীলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এতে পুরো শহরে আতঙ্ক বিরাজ করে।
৪ আগস্ট সকাল থেকে ছাত্র-জনতা বৃন্দাবন সরকারী কলেজ এলাকায় জড়ো হতে থাকে। এদিকে আওয়ামীলীগ শহরের টাউন হল এলাকায় অবস্থান নেয়। বেলা ১ টার দিকে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় পৌঁছুলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষ চলাকালে রিপন শীল নামে একজন নিহত হন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ পিছু হঠে। ছাত্র-জনতা তৎকালীন সংসদ সদস্য আবু জাহিরের বাসভবন ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীদের একাংশ হবিগঞ্জ-৩ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আবু জাহিরের বাসভবন এবং হবিগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খানের বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। কিছু দলীয় নেতাকর্মীসহ আবু জাহির বাসভবনে আটকা পড়েন। পরে রাতে সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত ছাত্র-জনতাকে বিচারের আশ্বাস দিয়ে বাসভবনে আটকা পড়া তৎকালীন এমপি আবু জাহির ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্ধার করে।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে হবিগঞ্জে সরকারীভাবে বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহন করা হয়েছে। বিএনপি-জামাত-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করে।